ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) ৩৫০ নটিকেল মাইল
১৯৮২ সালের সমুদ্র আইন সংক্রান্ত জাতিসংঘ কনভেনশন (United Nations Convention on the Law of the Sea - UNCLOS) অনুসারে মহীসোপানের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি সমুদ্র আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক, যা উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলোর সামুদ্রিক অধিকার ও সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য প্রণীত হয়েছে।
**UNCLOS অনুযায়ী মহীসোপানের সীমা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— মহীসোপান (Continental Shelf) হলো সমুদ্রের তলদেশের সেই অংশ, যা উপকূল থেকে শুরু হয়ে মহাসাগরের গভীর অংশ পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে।
— UNCLOS অনুযায়ী, মহীসোপানের সীমা নির্ধারণ করা হয় ভিত্তি রেখা (baseline) থেকে সর্বোচ্চ **৩৫০ নটিকেল মাইল** পর্যন্ত।
— তবে, মহীসোপানের প্রাকৃতিক প্রান্ত (natural prolongation) যদি ৩৫০ নটিকেল মাইলের বেশি হয়, তাহলে তা আরও বিস্তৃত হতে পারে, তবে তা সর্বোচ্চ **৩৫০ নটিকেল মাইলের বেশি নয়**।
— মহীসোপানের অধিকার উপকূলীয় রাষ্ট্রকে দেয় সামুদ্রিক সম্পদের উপর সার্বভৌম অধিকার, যেমন তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ ইত্যাদি।
— মহীসোপানের সীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রে ভিত্তি রেখা থেকে পরিমাপ করা হয়, যা সাধারণত উপকূলের নিম্ন জোয়ার রেখা (low-water line) হিসেবে বিবেচিত হয়।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) ২০০ নটিকেল মাইল: এটি মহীসোপানের পরিবর্তে একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের (Exclusive Economic Zone - EEZ) সীমা। EEZ-এর সীমা ভিত্তি রেখা থেকে ২০০ নটিকেল মাইল পর্যন্ত।
✗ খ) ৩০০ নটিকেল মাইল: এটি মহীসোপানের সীমা হিসেবে প্রচলিত নয়। UNCLOS অনুযায়ী মহীসোপানের সীমা ৩৫০ নটিকেল মাইল।
✗ ঘ) ৪৫০ নটিকেল মাইল: এটি মহীসোপানের সীমা হিসেবে নির্ধারিত নয়। মহীসোপানের সীমা সর্বোচ্চ ৩৫০ নটিকেল মাইল পর্যন্ত।
**উৎস:**
- United Nations Convention on the Law of the Sea (UNCLOS), 1982
- বাংলাদেশ সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত সামুদ্রিক আইন বিষয়ক নির্দেশিকা
- বিভিন্ন সরকারি পরীক্ষার প্রশ্নব্যাংক ও সমুদ্র আইন বিষয়ক বই