ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) সুকুমার রায়
‘আবোল-তাবোল’ হলো বাংলা সাহিত্যের একটি বিখ্যাত শিশুতোষ কাব্যগ্রন্থ, যা বাংলা ভাষার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক ও শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায় রচনা করেছেন।
**সুকুমার রায় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— সুকুমার রায় ছিলেন একজন ভারতীয় বাঙালি লেখক, শিল্পী, সাহিত্যিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা। তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিশুসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।
— তিনি কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে পদার্থবিদ্যায় স্নাতক হন এবং পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন।
— তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যের হাসির লেখক হিসেবে বিখ্যাত। তার লেখা কবিতা ও গল্পগুলো শিশুদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।
— তার বিখ্যাত রচনাগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘আবোল-তাবোল’, ‘হেশোরাম হুঁশিয়ার’, ‘পাগলা দাশু’, ‘খাই খাই’, ‘ঝালাপালা’, ‘লক্ষণের শক্তিশেল’ ইত্যাদি।
— তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যঙ্গচিত্রশিল্পী। তার ব্যঙ্গচিত্রগুলো বাংলা সাহিত্যে এক নতুন ধারার সূচনা করে।
— তিনি চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবেও খ্যাতি অর্জন করেন। তার পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’ বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।
— তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত। তার লেখা ‘আবোল-তাবোল’ গ্রন্থটি বাংলা সাহিত্যের একটি অমূল্য সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী: তিনি সুকুমার রায়ের পিতা এবং বাংলা সাহিত্যের একজন বিখ্যাত লেখক ও চিত্রশিল্পী ছিলেন। তার রচিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘টুনটুনির বই’, ‘ছেলেদের রামায়ণ’ ইত্যাদি। তিনি ‘আবোল-তাবোল’ রচনা করেননি।
✗ খ) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার: তিনি বাংলা সাহিত্যের একজন বিখ্যাত লেখক ছিলেন। তার রচিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘ঠাকুরমার ঝুলি’, ‘ঠাকুরদাদার ঝুলি’ ইত্যাদি। তিনি ‘আবোল-তাবোল’ রচনা করেননি।
✗ ঘ) সত্যজিৎ রায়: তিনি সুকুমার রায়ের পুত্র এবং বাংলা সাহিত্যের একজন বিখ্যাত লেখক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা ছিলেন। তার রচিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘ফেলুদার গোয়েন্দাগিরি’, ‘প্রফেসর শঙ্কুর কাণ্ডকারখানা’ ইত্যাদি। তিনি ‘আবোল-তাবোল’ রচনা করেননি।
উৎস:
— সুকুমার রায়ের জীবনী ও সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে জানতে ‘সুকুমার রায়: জীবন ও সাহিত্যকর্ম’ (লেখক: অশোক মুখোপাধ্যায়) গ্রন্থটি উল্লেখযোগ্য।
— বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে ‘বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস’ (লেখক: অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়) গ্রন্থটি উল্লেখযোগ্য।
— বিভিন্ন সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নব্যাংক থেকে সংগৃহীত