ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) মেঘের অসংখ্য পানি ও বরফ কণার মধ্যে চার্জ সঞ্চিত হলে
বিদ্যুৎ ও চুম্বকত্ব সম্পর্কিত প্রাকৃতিক ঘটনা হিসেবে বিজলী চমকানো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাধারণত বজ্রপাতের সময় আকাশে যে আলোকচ্ছটা দেখা যায় তাকে বিজলী চমকানো বলে। এটি মূলত মেঘের অভ্যন্তরে চার্জের সঞ্চারণের ফলে ঘটে থাকে।
**বিজলী চমকানো সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— বিজলী চমকানো বা বজ্রপাত হলো প্রকৃতির একটি বৈদ্যুতিক নির্গমন প্রক্রিয়া, যেখানে মেঘের অভ্যন্তরে বিপুল পরিমাণ চার্জ সঞ্চিত হয় এবং তা মাটিতে বা অন্য মেঘে নির্গত হয়।
— মেঘের মধ্যে থাকা পানি ও বরফ কণাগুলো ঘর্ষণের মাধ্যমে চার্জিত হয়। সাধারণত ভারী মেঘের উপরের অংশে ধনাত্মক চার্জ এবং নিচের অংশে ঋণাত্মক চার্জ সৃষ্টি হয়।
— যখন মেঘের অভ্যন্তরে চার্জের পার্থক্য একটি নির্দিষ্ট মাত্রা অতিক্রম করে, তখন বিদ্যুৎ প্রবাহ শুরু হয়। এই বিদ্যুৎ প্রবাহই বিজলী চমকানোর কারণ।
— বিজলী চমকানোর সময় উৎপন্ন তাপমাত্রা প্রায় ৩০,০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হতে পারে, যা সূর্যের পৃষ্ঠের তাপমাত্রার চেয়ে প্রায় পাঁচগুণ বেশি।
— বিজলী চমকানোর সময় উৎপন্ন শব্দকে বজ্রধ্বনি বলা হয়, যা আলোর তুলনায় ধীর গতিতে ভ্রমণ করে বলে পরে শোনা যায়।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) দুই খন্ড মেঘ পরস্পর সংঘর্ষে এলে
— দুই খন্ড মেঘের সংঘর্ষ সরাসরি বিজলী চমকানোর কারণ নয়। বিজলী চমকানোর জন্য মেঘের অভ্যন্তরে চার্জ সঞ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
✗ গ) মেঘে বিদ্যুৎ পরিবাহী কোষ তৈরি হলে
— মেঘে বিদ্যুৎ পরিবাহী কোষ তৈরি হওয়া বিজলী চমকানোর কারণ নয়। বিজলী চমকানোর জন্য চার্জ সঞ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
✗ ঘ) মেঘ বিদ্যুৎ পরিবাহী অবস্থায় এলে
— মেঘ বিদ্যুৎ পরিবাহী অবস্থায় এলেই বিজলী চমকাবে এমন নয়। বিজলী চমকানোর জন্য চার্জ সঞ্চিত হওয়া এবং তা নির্গত হওয়া প্রয়োজন।
**উৎস:**
— "বিদ্যুৎ ও চুম্বকত্ব" — ড. মুহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল
— "সাধারণ বিজ্ঞান" — জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, বাংলাদেশ
— "প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা" — দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ