ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) মেঘের অসংখ্য পানি ও বরফ কণার মধ্যে চার্জ সঞ্চিত হলে
**ভূমিকা:**
বিজলী বা বজ্রপাত প্রকৃতির এক বিস্ময়কর ঘটনা, যা সাধারণত বজ্রঝড়ের সময় দেখা যায়। এটি মূলত মেঘের মধ্যে বিদ্যুৎ প্রবাহের ফলে সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রপাত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়, যার কারণে প্রায়ই মানুষের জীবনহানি ঘটে। তাই সরকারি চাকরির পরীক্ষাগুলোতে বিজলী সম্পর্কিত প্রশ্ন প্রায়শই আসে।
---
**বিজলী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— বিজলী বা বজ্রপাত হলো মেঘ ও ভূমির মধ্যে অথবা মেঘের দুই অংশের মধ্যে বিদ্যুৎ প্রবাহের ফলে সৃষ্ট আলোকচ্ছটা ও শব্দ। এটি সাধারণত বজ্রঝড়ের সময় ঘটে থাকে।
— বিজলী সৃষ্টির মূল কারণ হলো মেঘের মধ্যে বিদ্যুৎ চার্জের সঞ্চয়। মেঘের মধ্যে অসংখ্য পানি ও বরফ কণা থাকে, যেগুলো ঘর্ষণের মাধ্যমে চার্জিত হয়। এই চার্জ সঞ্চয়ের ফলে মেঘের মধ্যে বিদ্যুৎ ক্ষেত্র তৈরি হয়।
— যখন মেঘের মধ্যে বিদ্যুৎ ক্ষেত্র যথেষ্ট শক্তিশালী হয়ে ওঠে, তখন তা ভূমি বা অন্য মেঘের দিকে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করে। এই প্রবাহই বিজলী হিসেবে দেখা যায়।
— বিজলীর সময় আলোকচ্ছটা দেখা যায় এবং একই সাথে শব্দ উৎপন্ন হয়, যা বজ্রধ্বনি নামে পরিচিত। আলো ও শব্দের মধ্যে সময়ের ব্যবধান থাকার কারণে প্রায়ই আলো দেখা যায় আগে এবং শব্দ শোনা যায় পরে।
— বিজলী বিভিন্ন ধরনের হতে পারে, যেমন: শাখা বিজলী (forked lightning), সমতল বিজলী (sheet lightning), বল বিজলী (ball lightning) ইত্যাদি।
---
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ **ক) দুই খন্ড মেঘ পর পর এলে**
— দুই খন্ড মেঘ পর পর আসলে তা সরাসরি বিজলী সৃষ্টির কারণ নয়। বিজলী সৃষ্টির জন্য মেঘের মধ্যে চার্জ সঞ্চয়ের প্রয়োজন হয়, যা দুই খন্ড মেঘের সংঘর্ষের মাধ্যমে ঘটতে পারে, কিন্তু এটি সরাসরি কারণ নয়।
✗ **খ) মেঘের মধ্যে বিদ্যুৎ কোষ তৈরি হলে**
— মেঘের মধ্যে বিদ্যুৎ কোষ তৈরি হওয়া বিজলী সৃষ্টির সরাসরি কারণ নয়। বিজলী সৃষ্টির জন্য মেঘের মধ্যে চার্জ সঞ্চয়ের প্রয়োজন হয়, যা বিদ্যুৎ কোষ তৈরির মাধ্যমে ঘটে না।
✗ **গ) মেঘ বিদ্যুৎ পরিবাহী অবস্থায় এলে**
— মেঘ বিদ্যুৎ পরিবাহী অবস্থায় এলেও তা সরাসরি বিজলী সৃষ্টির কারণ নয়। বিজলী সৃষ্টির জন্য মেঘের মধ্যে চার্জ সঞ্চয় এবং তার পরবর্তী প্রবাহ প্রয়োজন হয়।
---
**উৎস:**
— বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, "বজ্রপাত ও বিজলী সম্পর্কিত তথ্য"
— জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, "প্রাথমিক বিজ্ঞান" (ষষ্ঠ শ্রেণি)
— BCS Preliminary Guide, "General Science"