ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) নীতিকাব্য
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে মুসলিম কবিদের দ্বারা রচিত ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা সম্বলিত কাব্যগুলোর মধ্যে ‘তোহফা’ অন্যতম। আলাওল ছিলেন মধ্যযুগের একজন শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি, যিনি আরাকান রাজসভার কবিদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। তাঁর রচিত ‘তোহফা’ একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও নৈতিক গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হয়।
আলাওলের ‘তোহফা’ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— ‘তোহফা’ আরবি শব্দ, যার অর্থ উপহার বা দান। এটি একটি ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষামূলক কাব্য।
— কাব্যটি রচিত হয়েছে ১৬৫৯ খ্রিস্টাব্দে। আলাওল তাঁর পৃষ্ঠপোষক সোলেমান শাহের নির্দেশে এই কাব্য রচনা করেন।
— ‘তোহফা’ মূলত ইসলাম ধর্মের মৌলিক বিষয়াবলি, নৈতিক শিক্ষা, ইবাদতের নিয়মাবলি এবং মুসলমানদের জীবনাচরণ সম্পর্কিত নির্দেশনা সম্বলিত একটি গ্রন্থ।
— কাব্যটি প্রায় ৪০০০ পঙ্ক্তির সমন্বয়ে গঠিত। এটি আরবি ও ফারসি ভাষার প্রভাবমুক্ত বিশুদ্ধ বাংলা ভাষায় রচিত।
— আলাওল তাঁর পূর্ববর্তী মুসলিম কবিদের মতো ধর্মীয় বিষয়কে সাহিত্যের মাধ্যমে উপস্থাপন করেছেন। তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে ‘পদ্মাবতী’, ‘সয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামাল’, ‘হপ্তপয়কর’ ইত্যাদি।
— ‘তোহফা’ মুসলিম সমাজে ধর্মীয় শিক্ষা প্রচারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ ক) আত্মজীবনী: ‘তোহফা’ আলাওলের নিজের জীবনী নয়, বরং ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা সম্বলিত একটি কাব্য।
✗ খ) প্রণয়কাব্য: প্রণয়কাব্য বলতে সাধারণত প্রেম-ভালোবাসা বিষয়ক কাব্যকে বোঝায়, যা ‘তোহফা’-তে অনুপস্থিত।
✗ ঘ) জঙ্গনামা: জঙ্গনামা বলতে যুদ্ধ বা যুদ্ধাভিযান সম্পর্কিত কাব্যকে বোঝায়, যা ‘তোহফা’-এর বিষয়বস্তু নয়।
উৎস:
— ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, *বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস* (তৃতীয় খণ্ড), বাংলা একাডেমি, ঢাকা।
— ড. আনিসুজ্জামান, *মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য*, সাহিত্য প্রকাশ, ঢাকা।
— আলাওল, *তোহফা* (কাব্য গ্রন্থ), বিভিন্ন সংস্করণ।