ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) আব্দুল গাফফার চৌধুরী
‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো ২১শে ফেব্রুয়ারি’ বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতির একটি অমর সৃষ্টি। এই গানটি শহীদ দিবস তথা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এই গানটি রচিত হয়েছিল এবং পরবর্তীকালে এটি বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান লাভ করে।
**আব্দুল গাফফার চৌধুরী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— ১৯৩৪ সালের ১২ ডিসেম্বর বরিশাল জেলার উলানিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
— তিনি একজন বিশিষ্ট সাহিত্যিক, কলামিস্ট, গীতিকার ও রাজনীতিবিদ ছিলেন।
— তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় প্রবাসী সরকারের তথ্য ও প্রচার বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
— তার রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘জন্মভূমি’, ‘চন্দ্র দ্বীপের চিঠি’, ‘পলাশী থেকে ধানমন্ডি’ প্রভৃতি।
— তিনি ২০১৯ সালের ১৯ মে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে মৃত্যুবরণ করেন।
— তিনি বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক একুশে পদক এবং স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হন।
— তার লেখা ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ গানটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির আগেই, যা পরবর্তীকালে শহীদ দিবসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত হয়ে যায়।
— গানটির সুরকার ছিলেন আলতাফ মাহমুদ, যিনি পরবর্তীকালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং শহীদ হন।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ খ) আলতাফ মাহমুদ: তিনি এই গানের সুরকার ছিলেন, রচয়িতা নয়। তিনি একজন বিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী এবং শহীদ বুদ্ধিজীবী ছিলেন।
✗ গ) আব্দুল লতিফ: তিনি একজন প্রখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ ছিলেন, তবে এই গানের সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই।
✗ ঘ) আব্দুল আলীম: তিনি একজন বিখ্যাত গায়ক ছিলেন, কিন্তু এই গানের রচয়িতা বা সুরকার ছিলেন না।
উৎস:
— আব্দুল গাফফার চৌধুরী, ‘জন্মভূমি’ (আত্মজীবনী)
— বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর কর্তৃক প্রকাশিত ‘একুশে পদক গ্রন্থমালা’
— ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ গানের ইতিহাস সম্পর্কিত বিভিন্ন ঐতিহাসিক দলিল ও সংবাদপত্রের প্রতিবেদন