ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) আবদুল লতিফ
'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি' গানটি বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্মারক হিসেবে বিবেচিত। এটির সুর ও সঙ্গীত পরিচালনা করেছিলেন আবদুল লতিফ, যিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী ও সুরকার।
**আবদুল লতিফ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— আবদুল লতিফ ছিলেন বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব। তিনি ১৯১৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৭৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
— তিনি ছিলেন একজন বহুমুখী প্রতিভাধর ব্যক্তি — গায়ক, সুরকার, গীতিকার ও সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে তাঁর খ্যাতি ছিল।
— তিনি বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি গভীর অনুরাগী ছিলেন এবং ভাষা আন্দোলনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।
— তিনি বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতেরও সুরকার ছিলেন। তাঁর সুর করা অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে "ধন ধান্য পুষ্প ভরা", "আমার স্বপ্ন", "একবার যেতে দে না আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়" ইত্যাদি।
— তিনি পূর্ব পাকিস্তান সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
— তাঁর সঙ্গীত জীবনের উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য তিনি বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হন, যার মধ্যে রয়েছে বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৫) এবং স্বাধীনতা পুরস্কার (মরণোত্তর, ১৯৯৩)।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) আবদুল গাফফার চৌধুরী: তিনি ছিলেন এই গানের মূল গীতিকার। তিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় এই গানের কথা লেখেন। কিন্তু সুরকার ছিলেন না।
✗ খ) আসাদ চৌধুরী: তিনি একজন প্রখ্যাত কবি ও সাহিত্যিক। তিনি এই গানের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন না।
✗ গ) আলতাফ মাহমুদ: তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী ও সুরকার। তিনি পরবর্তীতে এই গানটির একটি জনপ্রিয় সংস্করণ তৈরি করেন, কিন্তু মূল সুরকার ছিলেন আবদুল লতিফ।
উৎস:
— আবদুল গাফফার চৌধুরী, "একুশের গান" (১৯৫২) — মূল গীতিকার হিসেবে তাঁর লেখা।
— আবদুল লতিফের জীবনী ও সঙ্গীত কর্ম, বাংলা একাডেমি প্রকাশিত গ্রন্থ।
— বাংলাদেশ জাতীয় সঙ্গীত ও ভাষা আন্দোলন সম্পর্কিত বিভিন্ন ঐতিহাসিক দলিল।