ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) রুদ্র-মঙ্গল
‘আমার পথ’ প্রবন্ধটি কাজী নজরুল ইসলামের স্বাধীনতা ও জাতীয়তাবাদী চেতনার অন্যতম প্রকাশ মাধ্যম। তাঁর লেখনীতে বারবার উঠে এসেছে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতা, ধর্মনিরপেক্ষতা ও মানবতার জয়গান। এই প্রবন্ধটি মূলত তাঁর রাজনৈতিক ও সামাজিক দর্শনের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হয়।
**কাজী নজরুল ইসলামের ‘রুদ্র-মঙ্গল’ গ্রন্থ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— ‘রুদ্র-মঙ্গল’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি প্রবন্ধ সংকলন। এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
— এই গ্রন্থে নজরুলের ধর্মনিরপেক্ষতা, সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতা, মানবতাবাদ ও জাতীয়তাবাদ সম্পর্কিত প্রবন্ধগুলো স্থান পেয়েছে।
— ‘আমার পথ’ প্রবন্ধটি এই গ্রন্থেরই একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রচনা।
— প্রবন্ধটিতে নজরুল নিজেকে ‘পথিক’ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন এবং সত্যের পথে অবিচল থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
— তিনি এখানে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ ও স্বাধীন চিন্তার উপর জোর দিয়েছেন, যা তাঁর লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
— ‘রুদ্র-মঙ্গল’ গ্রন্থটি মূলত ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সময়কালীন সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতিফলন ঘটিয়েছে।
**‘আমার পথ’ প্রবন্ধ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— প্রবন্ধটি প্রথম প্রকাশিত হয় ‘বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা’য় ১৯২৬ সালে।
— পরবর্তীতে এটি ‘রুদ্র-মঙ্গল’ গ্রন্থে সংকলিত হয়।
— প্রবন্ধটির মূল বিষয়বস্তু হলো ব্যক্তিস্বাধীনতা, সত্যের অনুসন্ধান ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতা।
— এখানে নজরুল বলেছেন, “আমি আমার পথ দেখাবো, তোমরা তোমাদের পথ দেখাও।”
— তিনি ধর্মান্ধতা ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
— প্রবন্ধটি তাঁর জাতীয়তাবাদী চেতনার অন্যতম প্রকাশ।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) যুগ-বাণী: এটি নজরুলের আরেকটি প্রবন্ধ সংকলন, তবে ‘আমার পথ’ এখানে স্থান পায়নি।
✗ গ) দুর্দিনের যাত্রী: এটি নজরুলের কাব্যগ্রন্থ, প্রবন্ধ সংকলন নয়। তাই এখানে ‘আমার পথ’ প্রবন্ধটি স্থান পায়নি।
✗ ঘ) রাজবন্দির জবানবন্দি: এটি নজরুলের একটি বিখ্যাত প্রবন্ধ, তবে এটি ‘রুদ্র-মঙ্গল’ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত নয়। এটি আলাদাভাবে প্রকাশিত হয়েছিল।
**উৎস:**
— কাজী নজরুল ইসলাম, *রুদ্র-মঙ্গল* (১৯২৭)।
— কাজী নজরুল ইসলাম, *যুগ-বাণী* (১৯২৬)।
— কাজী নজরুল ইসলাম, *দুর্দিনের যাত্রী* (কাব্যগ্রন্থ)।