ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) ভারতচন্দ্র রায়
'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে' – এই বিখ্যাত পঙক্তিটি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একটি অমর উচ্চারণ। এই লাইনটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের লেখা ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের অন্তর্গত। বাংলা মঙ্গলকাব্যের ধারায় রচিত এই কাব্যে দেবী অন্নদার স্তুতি ও রাজা মানসিংহের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। ভারতচন্দ্রের কাব্যে মানবিক আবেদন ও সরল ভাষার ব্যবহার তাকে বাংলা সাহিত্যের একজন অগ্রণী কবি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তাঁর লেখনীতে সমাজের সাধারণ মানুষের জীবনের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে, যা তাঁকে সাধারণ মানুষের কবি হিসেবে জনপ্রিয় করে তুলেছে।
**ভারতচন্দ্র রায় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর (১৭১২–১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ) বাংলা সাহিত্যের অষ্টাদশ শতকের একজন শ্রেষ্ঠ কবি। তাঁর প্রকৃত নাম ভারতচন্দ্র রায়, তবে তিনি ‘গুণাকর’ উপাধিতে ভূষিত হন।
— তিনি ছিলেন নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের সভাকবি। রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে তিনি ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য রচনা করেন।
— ভারতচন্দ্রের রচনায় বাংলা ভাষার প্রাঞ্জলতা ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়। তাঁর লেখায় সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার কম হলেও বাংলা শব্দের সমৃদ্ধ প্রয়োগ লক্ষ্য করা যায়।
— তিনি তাঁর কাব্যে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের জীবনযাত্রা, ধর্মীয় বিশ্বাস ও সামাজিক রীতিনীতির চিত্র তুলে ধরেছেন।
— ভারতচন্দ্রের উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে ‘অন্নদামঙ্গল’, ‘বিদ্যাসুন্দর’, ‘সত্যপীরের পাঁচালী’ প্রভৃতি।
— তাঁর লেখা ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে’ পঙক্তিটি বাংলা সাহিত্যের একটি অমর উক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। এই লাইনটি মানুষের মৌলিক চাহিদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসেবে সমাদৃত।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী: মুকুন্দরাম চক্রবর্তী ছিলেন মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের একজন উল্লেখযোগ্য কবি। তাঁর বিখ্যাত রচনা ‘চণ্ডীমঙ্গল’। তবে ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে’ লাইনটি তাঁর লেখা নয়।
✗ গ) মদনমোহন তর্কালঙ্কার: মদনমোহন তর্কালঙ্কার ছিলেন উনিশ শতকের একজন সংস্কৃত পণ্ডিত ও লেখক। তিনি বাংলা সাহিত্যে অবদান রাখলেও এই বিখ্যাত লাইনটি তাঁর লেখা নয়।
✗ ঘ) কামিনী রায়: কামিনী রায় ছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা কবি। তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা ‘আলো ও ছায়া’। তবে এই লাইনটি তাঁর লেখা নয়।
**উৎস:**
— ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর, ‘অন্নদামঙ্গল’ (প্রথম খণ্ড), সম্পাদনা: সুকুমার সেন, সাহিত্য অকাদেমি