‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধেভাতে।’—এই মনােবাঞ্ছাটি কার?
কভবানন্দের
খভাঁড়ুদত্তের
গঈশ্বরী পাটুনীর✓
ঘফুল্লরার
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) ঈশ্বরী পাটুনীর
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে রচিত মনসামঙ্গল কাব্যের অন্যতম প্রধান চরিত্র ঈশ্বরী পাটুনী।
ঈশ্বরী পাটুনী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— তিনি মনসামঙ্গল কাব্যের একজন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হিসেবে পরিচিত। মনসামঙ্গল কাব্য মূলত চাঁদ সদাগরের কাহিনীকে কেন্দ্র করে রচিত হলেও ঈশ্বরী পাটুনী নামক চরিত্রটি কাব্যের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ গঠন করেছে।
— ঈশ্বরী পাটুনী ছিলেন একজন সাধারণ মানুষ, যিনি মনসা দেবীর উপাসনা করতেন। তার স্ত্রী ছিলেন চাঁদ সদাগরের কন্যা ফুল্লরা।
— তিনি মনসা দেবীর প্রতি অত্যন্ত ভক্তিশীল ছিলেন এবং তার স্ত্রী ফুল্লরার মাধ্যমে মনসা দেবীর কৃপা লাভের জন্য প্রার্থনা করতেন।
— তার বিখ্যাত উক্তি "আমার সন্তান যেন থাকে দুধেভাতে" মনসামঙ্গল কাব্যের একটি অন্যতম উল্লেখযোগ্য অংশ। এই উক্তির মাধ্যমে তিনি তার সন্তানের সুখ-সমৃদ্ধির জন্য মনসা দেবীর কাছে প্রার্থনা করেছিলেন।
— ঈশ্বরী পাটুনী চরিত্রটি মনসামঙ্গল কাব্যের বিভিন্ন সংস্করণে ভিন্ন ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। তবে তার স্ত্রী ফুল্লরার মাধ্যমে মনসা দেবীর কৃপা লাভের কাহিনীটি সর্বাধিক প্রচলিত।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ ক) ভবানন্দের: ভবানন্দ ছিলেন মনসামঙ্গল কাব্যের অন্যতম প্রধান চরিত্র চাঁদ সদাগরের পুত্র। তিনি মনসা দেবীর উপাসনা করতেন এবং তার জীবনের বিভিন্ন ঘটনা কাব্যে বর্ণিত হয়েছে। তবে "আমার সন্তান যেন থাকে দুধেভাতে" এই উক্তিটি তার নয়।
✗ খ) ভাঁড়ুদত্তের: ভাঁড়ুদত্ত ছিলেন মনসামঙ্গল কাব্যের একটি উল্লেখযোগ্য চরিত্র, যিনি চাঁদ সদাগরের বিরোধিতা করেছিলেন। তিনি মনসা দেবীর উপাসনা করতেন না এবং তার সম্পর্কে এই উক্তিটি প্রচলিত নয়।
✗ ঘ) ফুল্লরার: ফুল্লরা ছিলেন চাঁদ সদাগরের কন্যা এবং ঈশ্বরী পাটুনীর স্ত্রী। তিনি মনসা দেবীর উপাসনা করতেন এবং তার মাধ্যমে মনসা দেবীর কৃপা লাভ করেছিলেন। তবে "আমার সন্তান যেন থাকে দুধেভাতে" এই উক্তিটি তার নয়, এটি ঈশ্বরী পাটুনীর উক্তি।
উৎস:
— মনসামঙ্গল কাব্য (বিভিন্ন সংস্করণ)
— বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ)
— বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (ড. আনিসুজ্জামান)