ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও সরকার গঠনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে এই প্রশ্নটির গুরুত্ব অপরিসীম। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করার মাধ্যমে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভের পথ সুগম হয়।
**স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র হলো ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল তারিখে বাংলাদেশ সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক দলিল। এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভের প্রাথমিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
— ঘোষণাপত্রটি মূলত বাংলাদেশকে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করে এবং একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের কথা উল্লেখ করে। এই সরকারের নেতৃত্বে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, যিনি তখন পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি ছিলেন।
— ঘোষণাপত্রটি মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে (বর্তমান মুজিবনগর) আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়। পরবর্তীকালে এই স্থানটির নামকরণ করা হয় মুজিবনগর।
— ঘোষণাপত্রটির মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বৈধতা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরা হয়। এটি বাংলাদেশের সংবিধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
— ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করা হয় যে, ২৬ মার্চ ১৯৭১ তারিখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদান করা হয়েছিল, এবং পরবর্তীকালে ১০ এপ্রিল তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করা হয়।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশিষ্লেষণ:**
✗ খ) ১৭ এপ্রিল ১৯৭১: এই তারিখটি মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণের দিন হিসেবে পরিচিত। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করা হয়েছিল তার আগের দিন অর্থাৎ ১০ এপ্রিল।
✗ গ) ৭ মার্চ, ১৯৭১: এই তারিখটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদানের দিন হিসেবে পরিচিত, যেখানে তিনি স্বাধীনতার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এটি স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারির দিন নয়।
✗ ঘ) ২৫ মার্চ, ১৯৭১: এই তারিখটি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অপারেশন সার্চলাইট শুরু হওয়ার দিন হিসেবে পরিচিত। এটি স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারির দিন নয়।
উৎস:
- বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদপ্তর প্রকাশিত "মুজিবনগর সরকার: ইতিহাস ও ঐতিহ্য"।
- বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর কর্তৃক প্রকাশিত "মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র"।
- বাংলাদেশ সরকারের সংবিধান ও স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সংক্রান্ত সরকারি প্রকাশনা।