ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) মাজার-ই-শরীফ
**তালিবান ও ইরানের কূটনৈতিক সম্পর্ক বিষয়ক প্রেক্ষাপট:**
২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আফগানিস্তানে তালিবান সরকারের অধীনে ইরানের কূটনীতিবিদদের হত্যার ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তালিবান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে, তারা ইরানের কূটনৈতিক মিশনের সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এই ঘটনা আফগানিস্তান ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটায়।
**মাজার-ই-শরীফ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— মাজার-ই-শরীফ আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলের একটি প্রধান শহর এবং বাল্খ প্রদেশের রাজধানী।
— এটি ইসলামী ইতিহাস ও সংস্কৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে পরিচিত, যেখানে আলী ইবনে আবী তালিবের মাজার অবস্থিত বলে বিশ্বাস করা হয়।
— শহরটি মধ্য এশিয়ার সাথে আফগানিস্তানের যোগাযোগের একটি প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত।
— তালিবানদের অধীনে আফগানিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে কূটনৈতিক মিশনগুলোর উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন বিরোধ দেখা দেয়।
**ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ:**
— ২০২৩ সালের ১১ জানুয়ারি আফগানিস্তানের মাজার-ই-শরীফ শহরে ইরানের কূটনীতিবিদদের বিরুদ্ধে তালিবান সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করে বলে জানা যায়।
— তালিবান কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল যে, ইরানের কূটনীতিবিদরা আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছিলেন।
— ঘটনার পর ইরান আফগানিস্তানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থগিত করে এবং আফগানিস্তানে অবস্থিত ইরানের দূতাবাস বন্ধ করে দেয়।
— আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই ঘটনার নিন্দা জানায় এবং আফগানিস্তানের মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ খ) হেরাত: হেরাত আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর, যেখানে ইরানের প্রভাব বেশি থাকলেও তালিবানদের বিরুদ্ধে ইরানের কূটনীতিবিদদের হত্যার ঘটনা ঘটেনি।
✗ গ) জালালাবাদ: জালালাবাদ পূর্ব আফগানিস্তানের একটি প্রধান শহর, যেখানে তালিবানদের প্রভাব রয়েছে, কিন্তু ইরানের কূটনীতিবিদদের হত্যার ঘটনা ঘটেনি।
✗ ঘ) কান্দাহার: কান্দাহার দক্ষিণ আফগানিস্তানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর এবং তালিবানদের আদি ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, কিন্তু ইরানের কূটনীতিবিদদের হত্যার ঘটনা ঘটেনি।
উৎস:
— বিবিসি নিউজ (২০২৩ সালের জানুয়ারি সংবাদ)
— আল জাজিরা (২০২৩ সালের জানুয়ারি সংবাদ)
— দ্য গার্ডিয়ান (২০২৩ সালের জানুয়ারি সংবাদ)