ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) আরবের বিভিন্ন দেশে গণজাগরণ
<‘আরব বসন্ত’ হলো বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে আরব বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংঘটিত গণবিপ্লব ও গণজাগরণের একটি ধারাবাহিক ঘটনা>
**‘আরব বসন্ত’ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— **আরব বসন্তের সূচনা**: ২০১০ সালের ডিসেম্বরে তিউনিসিয়ার একজন ফল বিক্রেতা মোহাম্মদ বোয়াজিজির আত্মাহুতি প্রদানের মাধ্যমে এই গণজাগরণ শুরু হয়। তিনি পুলিশের হাতে হয়রানির শিকার হয়ে নিজেকে আগুনে পুড়িয়ে ফেলেন, যা তিউনিসিয়া ও পরবর্তীকালে পুরো আরব বিশ্বে ব্যাপক প্রতিবাদের সূত্রপাত ঘটায়।
— **প্রধান কারণসমূহ**:
— **দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসন**: অধিকাংশ আরব দেশে দীর্ঘকাল ধরে স্বৈরাচারী সরকার ক্ষমতায় ছিল, যা জনগণের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল।
— **অর্থনৈতিক বৈষম্য**: উচ্চ বেকারত্ব, দারিদ্র্য, খাদ্য সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি জনগণের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছিল।
— **স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের অভাব**: জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি প্রবল ছিল।
— **সামাজিক মাধ্যমের ভূমিকা**: ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউবের মতো সামাজিক মাধ্যমগুলো বিপ্লবীদের সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
— **প্রধান ঘটনাসমূহ**:
— **তিউনিসিয়া**: ২০১১ সালের জানুয়ারিতে স্বৈরশাসক জিন এল আবেদিন বেন আলীর পতন ঘটে। এটি ছিল আরব বসন্তের প্রথম সাফল্য।
— **মিশর**: ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রপতি হোসনি মুবারকের পদত্যাগ ঘটে। তবে পরবর্তীকালে সামরিক শাসনের পুনরাবৃত্তি ঘটে।
— **লিবিয়া**: মুয়াম্মার গাদ্দাফির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু হয়। জাতিসংঘের নেতৃত্বে ন্যাটো হস্তক্ষেপ করে এবং গাদ্দাফির পতন ঘটে (২০১১ সালের অক্টোবরে)।
— **সিরিয়া**: ২০১১ সালের মার্চে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। পরবর্তীকালে এটি গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়, যা এখনও চলমান।
— **ইয়েমেন**: রাষ্ট্রপতি আলী আবদুল্লাহ সালেহের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু হয়। তিনি ২০১২ সালে পদত্যাগ করেন।
— **বাহরাইন**: সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সহায়তায় রাজতন্ত্র টিকে থাকে।
— **ফলাফল ও প্রভাব**:
— কিছু দেশে স্বৈরশাসনের পতন ঘটে এবং গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয় (যেমন তিউনিসিয়া)।
— কিছু দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হয় (যেমন সিরিয়া, ইয়েমেন)।
— কিছু দেশে সরকার পরিবর্তন হলেও নতুন স্বৈরশাসনের উদ্ভব ঘটে (যেমন মিশর)।
— আরব বসন্তের প্রভাব শুধু আরব বিশ্বেই সীমাবদ্ধ ছিল না, এটি বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্র ও মানবাধিকার আন্দোলনের