ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) বেদ
আর্যদের ধর্মীয় ও সাহিত্যিক ঐতিহ্যের মূল উৎস হিসেবে বিবেচিত গ্রন্থ সম্পর্কে জানতে এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ।
**বেদ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— **বেদ** হলো প্রাচীন ভারতীয় আর্য সভ্যতার সর্বপ্রথম ধর্মগ্রন্থ। এটি সংস্কৃত ভাষায় রচিত।
— বেদ চারটি প্রধান অংশে বিভক্ত: ঋগ্বেদ, সামবেদ, যজুর্বেদ ও অথর্ববেদ।
— ঋগ্বেদ হলো প্রাচীনতম বেদ, যা মূলত স্তোত্র সংকলন।
— সামবেদ স্তোত্রগুলো গানের আকারে গাওয়া হতো।
— যজুর্বেদ যজ্ঞের মন্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
— অথর্ববেদে বিভিন্ন জাদুবিদ্যা, চিকিৎসা ও সাধারণ জীবনযাপনের মন্ত্র রয়েছে।
— বেদকে "অপৌরুষেয়" বলা হয়, অর্থাৎ কোনো মানুষের দ্বারা রচিত নয়, বরং ঈশ্বরপ্রদত্ত।
— বৈদিক ধর্মের মূল ভিত্তি হলো বেদ, যা পরবর্তীকালে হিন্দুধর্মের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) মহাভারত: মহাভারত একটি মহাকাব্য, যা ধর্মীয় ও দার্শনিক উপাখ্যান সমৃদ্ধ হলেও আর্য ধর্মগ্রন্থ নয়।
✗ খ) রামায়ণ: রামায়ণও একটি মহাকাব্য, যা মহাভারতের মতো ধর্মীয় ও নৈতিক উপাখ্যান বহন করে, কিন্তু বেদ নয়।
✗ গ) গীতা: গীতাকে হিন্দুধর্মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মগ্রন্থ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও এটি মহাভারতের একটি অংশ মাত্র, স্বতন্ত্র ধর্মগ্রন্থ নয়।
উৎস:
— "Ancient Indian History" by R.S. Sharma
— "The Vedas" by A.L. Basham
— বিভিন্ন সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নব্যাংক (BCS, Bank, NTRCA)