ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) বাবা ছেলেকে বললেন, ‘তুমি দীর্ঘজীবী হও’
পরোক্ষ উক্তি থেকে প্রত্যক্ষ উক্তি গঠনের ক্ষেত্রে মূল ক্রিয়ার পরিবর্তন ঘটে। এখানে ‘দীর্ঘায়ু কামনা করলেন’ পরোক্ষ উক্তি থেকে প্রত্যক্ষ উক্তিতে রূপান্তরের সময় মূল ক্রিয়ার অর্থ প্রকাশ করতে হবে।
‘বাবা ছেলের দীর্ঘায়ু কামনা করলেন’ – এই পরোক্ষ উক্তির প্রত্যক্ষরূপ হবে যখন মূল কথাটি সরাসরি ব্যক্ত করা হবে। প্রত্যক্ষ উক্তিতে ব্যক্তির নিজের কথা সরাসরি উচ্চারিত হয়।
‘বাবা ছেলেকে বললেন, ‘তুমি দীর্ঘজীবী হও’’ – এখানে বাবা নিজেই ছেলেকে দীর্ঘজীবী হওয়ার জন্য আশীর্বাদ করছেন, যা প্রত্যক্ষ উক্তির বৈশিষ্ট্য।
---
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ ক) বাবা ছেলেকে বললেন, বাবা তুমি দীর্ঘজীবী হও
— এখানে ‘বাবা’ শব্দটির পুনরাবৃত্তি হয়েছে, যা প্রত্যক্ষ উক্তির সরল গঠনের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ। প্রত্যক্ষ উক্তিতে ব্যক্তির নিজের কথা সরাসরি উচ্চারিত হয়, তাই ‘বাবা’ শব্দটির পুনরাবৃত্তি প্রয়োজন নেই।
✗ খ) বাবা ছেলেকে বললেন যে, তোমার দীর্ঘয়ু হোক
— এখানে ‘যে’ সংযোজক ব্যবহৃত হয়েছে, যা পরোক্ষ উক্তির বৈশিষ্ট্য। প্রত্যক্ষ উক্তিতে সরাসরি নির্দেশ করা হয়, তাই ‘যে’ সংযোজক ব্যবহারের প্রয়োজন নেই।
✗ ঘ) বাবা ছেলেকে বললেন যে, আমি তোমার দীর্ঘায়ু কামনা করি
— এখানে ‘যে’ সংযোজক ব্যবহৃত হয়েছে এবং নিজেকে নির্দেশ করে ‘আমি’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে, যা প্রত্যক্ষ উক্তির বৈশিষ্ট্যের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ। প্রত্যক্ষ উক্তিতে ব্যক্তির নিজের কথা সরাসরি উচ্চারিত হয়, তাই ‘আমি’ শব্দটির প্রয়োজন নেই।
---
উৎস:
১. বাংলা ব্যাকরণ ও রচনা, ড. হায়াৎ মামুদ
২. মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ, এনসিটিবি প্রকাশিত
৩. বিসিএস প্রিলিমিনারি সাধারণ জ্ঞান ও বাংলা ব্যাকরণ, এমপিআই প্রকাশিত