ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) সৃষ্ট শব্দের প্রতিধ্বনি শুনে
বাদুড় অন্ধকারে চলাফেরা করার প্রক্রিয়া সম্পর্কিত সাধারণ জ্ঞান পরীক্ষায় প্রায়ই আসে। এটি প্রাণিবিদ্যা ও জীববিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
**বাদুড় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— বাদুড় স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে একমাত্র যারা সত্যিকার অর্থে উড়তে পারে।
— বিশ্বে প্রায় ১,৪০০ প্রজাতির বাদুড় রয়েছে, যা স্তন্যপায়ী প্রজাতির প্রায় ২০%।
— অধিকাংশ বাদুড় নিশাচর অর্থাৎ রাতে সক্রিয় থাকে।
— বাদুড়ের দৃষ্টিশক্তি সাধারণত দুর্বল হয়ে থাকে, বিশেষ করে অন্ধকারে চলাফেরার জন্য তারা নির্ভর করে ইকোলোকেশন নামক প্রক্রিয়ার উপর।
— ইকোলোকেশন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে প্রাণী শব্দ উৎপন্ন করে এবং সেই শব্দের প্রতিধ্বনি শুনে পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা লাভ করে।
**বাদুড়ের ইকোলোকেশন প্রক্রিয়া:**
— বাদুড় মুখ দিয়ে বা নাক দিয়ে উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দ (আল্ট্রাসনিক সাউন্ড) উৎপন্ন করে, যা মানুষের শ্রবণ ক্ষমতার বাইরে।
— এই শব্দ চারপাশের বস্তুতে বাধা পেয়ে প্রতিধ্বনি হিসেবে ফিরে আসে।
— বাদুড় সেই প্রতিধ্বনি শুনে বস্তুর অবস্থান, আকার, গতি এবং দূরত্ব নির্ধারণ করে।
— ইকোলোকেশন প্রক্রিয়া এতটাই কার্যকর যে বাদুড় অন্ধকারেও নির্ভুলভাবে উড়তে এবং শিকার ধরতে পারে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) তীক্ষ্ণ দৃষ্টিসম্পন্ন চোখের সাহায্যে: অধিকাংশ বাদুড়ের দৃষ্টিশক্তি দুর্বল। তারা প্রধানত ইকোলোকেশনের উপর নির্ভর করে, চোখের উপর নয়।
✗ খ) ক্রমাগত শব্দ উৎপন্নের মাধ্যমে অবস্থান নির্ণয় করে: শব্দ উৎপন্ন করা ইকোলোকেশনের একটি অংশ মাত্র। প্রকৃতপক্ষে, বাদুড় শব্দ উৎপন্ন করে এবং তার প্রতিধ্বনি শুনে অবস্থান নির্ণয় করে।
✗ ঘ) অলৌকিকভাবে: এটি একটি অবৈজ্ঞানিক এবং ভিত্তিহীন ধারণা। বাদুড়ের চলাফেরা সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ার উপর নির্ভরশীল।
উৎস:
— "Biology" by Neil A. Campbell and Jane B. Reece (10th Edition)
— "Animal Behavior" by John Alcock (10th Edition)
— বিভিন্ন সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নব্যাংক ও বিগত বছরের প্রশ্নপত্র