ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) একাশি
খানজাহান আলী প্রতিষ্ঠিত বাগেরহাটের বিখ্যাত ষাটগম্বুজ মসজিদ সম্পর্কে পরীক্ষায় প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
**খানজাহান আলী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— খানজাহান আলী ছিলেন একজন মুসলিম ধর্মপ্রচারক, সুফি সাধক ও স্থপতি। তিনি চতুর্দশ শতাব্দীতে (১৫ শতকের প্রথম দিকে) বাংলায় ইসলাম ধর্ম প্রচারে আসেন।
— তার প্রকৃত নাম উলুঘ খান, তবে তিনি খানজাহান নামেই বেশি পরিচিত। তিনি ছিলেন তুর্কিস্তানের অধিবাসী।
— তিনি বাগেরহাট অঞ্চলে ইসলাম প্রচারের পাশাপাশি অসংখ্য স্থাপনা নির্মাণ করেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ষাটগম্বুজ মসজিদ।
— তার মৃত্যু হয় ৮৬৩ হিজরি মোতাবেক ১৪৫৯ খ্রিস্টাব্দে। তার মাজার বাগেরহাট শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত।
**ষাটগম্বুজ মসজিদ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— ষাটগম্বুজ মসজিদ বাংলাদেশের প্রাচীনতম ও বৃহত্তম মসজিদগুলোর মধ্যে অন্যতম। এটি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃত।
— মসজিদটির নির্মাণকাল আনুমানিক ১৫ শতকের মাঝামাঝি সময়ে (১৪৫০ খ্রিস্টাব্দের কাছাকাছি)।
— মসজিদটির নাম "ষাটগম্বুজ" হলেও প্রকৃতপক্ষে এর গম্বুজ সংখ্যা ৭৭টি। তবে মূল গম্বুজের সংখ্যা ৬০টি হওয়ায় এটি ষাটগম্বুজ নামে পরিচিত।
— মসজিদটির পূর্ব দিকে রয়েছে বিশাল একটি দীঘি, যা দিঘির পাড় নামে পরিচিত। দিঘিটি খানজাহান আলী নিজেই খনন করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়।
— মসজিদটির নির্মাণশৈলী ইসলামি ও বাংলা স্থাপত্যের মিশ্রণে গড়ে উঠেছে। এর দেয়ালগুলো অত্যন্ত পুরু ও মজবুত।
— মসজিদটির অভ্যন্তরে রয়েছে ৬০টি স্তম্ভ, যা গম্বুজগুলোকে ধারণ করে আছে। স্তম্ভগুলো ইট ও চুন-সুরকি দিয়ে নির্মিত।
— মসজিদটির পূর্ব দেয়ালে রয়েছে তিনটি প্রবেশপথ। মাঝের প্রবেশপথটি সবচেয়ে প্রশস্ত।
— মসজিদটির অভ্যন্তরে রয়েছে একটি মিহরাব, যা অত্যন্ত সুন্দরভাবে খোদাই করা।
— মসজিদটির দক্ষিণ দিকে রয়েছে একটি বিশাল বারান্দা, যা নামাজের স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
— মসজিদটির নির্মাণে ব্যবহৃত ইটগুলো অত্যন্ত উন্নতমানের ছিল, যা শত শত বছর ধরে টিকে রয়েছে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) আশি: মসজিদটির গম্বুজ সংখ্যা ৭৭টি হলেও এটি প্রচলিত নাম "ষাটগম্বুজ" হওয়ায় অনেকেই ভুল করে আশিটি উত্তর দিতে পারেন।
✗ খ) সাতাশি: এটি একটি সম্পূর্ণ ভুল তথ্য, কারণ মসজিদটির গম্বুজ সংখ্যা ৭৭ হলেও নামের সাথে মিল রেখে অনেকেই ভুল করতে পারেন।
✗ গ) ষাট: মসজিদটির নাম "ষাটগম্বুজ" হওয়ায় অনেকেই সরাসরি ৬০টি গম্বুজ ভেবে ভুল করতে পারেন, তবে প্রকৃতপক্ষে গম