ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) আয়োনোস্ফিয়ার
বেতার তরঙ্গ প্রতিফলনের জন্য দায়ী বায়ুমণ্ডলের স্তর সম্পর্কে জানতে হলে প্রথমে বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তরের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রয়োজন। বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থায় আয়োনোস্ফিয়ার স্তরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
**আয়োনোস্ফিয়ার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— আয়োনোস্ফিয়ার হলো বায়ুমণ্ডলের একটি স্তর যা পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার থেকে শুরু হয়ে ১,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি মূলত থার্মোস্ফিয়ার এবং এক্সোস্ফিয়ারের অংশ নিয়ে গঠিত।
— এই স্তরে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি এবং অন্যান্য উচ্চ শক্তিসম্পন্ন বিকিরণের প্রভাবে বায়ুর অণু ও পরমাণু আয়নিত হয়ে যায়। ফলে এখানে প্রচুর পরিমাণে মুক্ত ইলেকট্রন এবং আয়ন থাকে।
— আয়োনোস্ফিয়ারের এই আয়নিত কণাগুলো বেতার তরঙ্গকে প্রতিফলিত করতে সক্ষম। বিশেষ করে HF (High Frequency) ব্যান্ডের বেতার তরঙ্গগুলো আয়োনোস্ফিয়ার দ্বারা প্রতিফলিত হয়ে দীর্ঘ দূরত্বে যোগাযোগ স্থাপনে সহায়তা করে।
— আয়োনোস্ফিয়ারকে কয়েকটি উপস্তরে বিভক্ত করা হয়, যেমন: D স্তর (৬০-৯০ কিমি), E স্তর (৯০-১৫০ কিমি), F1 স্তর (১৫০-২০০ কিমি), এবং F2 স্তর (২০০-৪০০ কিমি)। এদের মধ্যে F2 স্তরটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি সর্বোচ্চ আয়নিত স্তর এবং দীর্ঘতম প্রতিফলনের জন্য দায়ী।
— আয়োনোস্ফিয়ারের উচ্চতা এবং আয়নিত স্তরের ঘনত্ব দিনের সময়, ঋতু এবং সৌর কার্যকলাপের উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়। রাতে D স্তর বিলুপ্ত হয়ে যায়, ফলে স্বল্প দূরত্বের বেতার যোগাযোগ প্রভাবিত হয়।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) স্ট্রাটোস্ফিয়ার: স্ট্রাটোস্ফিয়ার হলো বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় স্তর, যা ট্রাপোস্ফিয়ারের উপরে প্রায় ১২ থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। এই স্তরে প্রধানত ওজোন গ্যাস থাকে, যা সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে। তবে এখানে বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয় না।
✗ খ) ট্রাপোস্ফিয়ার: ট্রাপোস্ফিয়ার হলো বায়ুমণ্ডলের সর্বনিম্ন স্তর, যা পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। এই স্তরে আবহাওয়া সংক্রান্ত ঘটনাগুলো ঘটে, যেমন মেঘ, বৃষ্টি, বজ্রপাত ইত্যাদি। তবে বেতার তরঙ্গ প্রতিফলনের জন্য উপযুক্ত নয়।
✗ ঘ) ওজোন স্তর: ওজোন স্তর মূলত স্ট্রাটোস্ফিয়ারের একটি অংশ, যা সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে। এটি বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত করতে সক্ষম নয়।
উৎস:
— *Introduction to Modern Atmospheric Science* by C. Donald Ahrens
— *Radio Wave Propagation* by John A. Richards
— বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (BPSC) প্রণীত সাধারণ জ্ঞান বিষয়ক গাইডবুক