ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) উদ্দেশ্য, বিধেয়
বাক্যের গঠনগত উপাদান সম্পর্কে ধারণা থাকা যেকোনো সরকারি চাকরির পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বিসিএস, ব্যাংক, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ এবং এনটিআরসিএ পরীক্ষায় বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ অংশে এই বিষয়টি প্রায়শই পরীক্ষায় আসে। বাংলা ব্যাকরণে বাক্যের গঠন বিশ্লেষণ করার ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য ও বিধেয়কে প্রধান দুটি অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
**বাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— **উদ্দেশ্য (Subject):** বাক্যে যার সম্পর্কে কিছু বলা হয়, তাকে উদ্দেশ্য বলে। উদ্দেশ্য সাধারণত একটি বিশেষ্য পদ বা বিশেষ্য পদ দ্বারা গঠিত পদসমষ্টি হয়। উদাহরণ: "রহিম স্কুলে যায়।" এখানে "রহিম" হলো উদ্দেশ্য।
— **বিধেয় (Predicate):** বাক্যে উদ্দেশ্য সম্পর্কে যা বলা হয়, তাকে বিধেয় বলে। বিধেয় সাধারণত ক্রিয়া পদ বা ক্রিয়া পদ দ্বারা গঠিত পদসমষ্টি হয়। উদাহরণ: উপরের বাক্যে "স্কুলে যায়" হলো বিধেয়।
— **উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের পারস্পরিক সম্পর্ক:** উদ্দেশ্য ব্যতীত বিধেয় অর্থহীন হয়ে পড়ে এবং বিধেয় ব্যতীত উদ্দেশ্য অসম্পূর্ণ থাকে। উদাহরণ: "রহিম" শুধু উদ্দেশ্য হিসেবে থাকলে সম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে না, কিন্তু "রহিম স্কুলে যায়" সম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে।
— **বাক্যের গঠন বিশ্লেষণে গুরুত্ব:** উদ্দেশ্য ও বিধেয়কে আলাদা করে বিশ্লেষণ করলে বাক্যের গঠন ও অর্থ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। এটি ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ এবং লেখার মান উন্নয়নে সহায়ক।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ **ক) প্রসাদগুণ, মাধুর্যগুণ:** প্রসাদগুণ ও মাধুর্যগুণ হলো বাংলা গদ্যের গুণাবলি, যা বাক্যের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে ব্যবহৃত হয়। এটি বাক্যের অংশ নয়, বরং বাক্যের গুণগত মান সম্পর্কিত ধারণা।
✗ **খ) উপমা, অলংকার:** উপমা ও অলংকার হলো বাংলা সাহিত্যের অলংকার শাস্ত্রের অংশ, যা কবিতায় বা গদ্যে শব্দের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি বাক্যের গঠনগত অংশ নয়।
✗ **ঘ) সাধু, চলিত:** সাধু ও চলিত হলো বাংলা ভাষার দুই ধরনের রীতি বা ভাষারীতি। এটি বাক্যের অংশ নয়, বরং ভাষার ধরণ বা স্টাইল সম্পর্কিত ধারণা।
উৎস:
— বাংলা ব্যাকরণ, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
— বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
— মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড