ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) নীহাররঞ্জন রায়
‘বাঙ্গালীর ইতিহাস’ গ্রন্থটি বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত। এটি বাংলাদেশের প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় ইতিহাস সম্পর্কে গবেষণাধর্মী আলোচনার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
**নীহাররঞ্জন রায় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ, সাহিত্যিক ও গবেষক।
— জন্ম: ১৯০৩ সালে অবিভক্ত বাংলার (বর্তমান বাংলাদেশের) বরিশাল জেলায়।
— তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস বিষয়ে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন।
— কর্মজীবনে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে অধ্যাপনা করেন।
— তিনি বাংলা সাহিত্য ও ইতিহাস বিষয়ে অসংখ্য গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে ‘বাঙ্গালীর ইতিহাস’ অন্যতম।
— তাঁর লেখা অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: ‘বাঙ্গালীর খাদ্য ও পানীয়’, ‘বাঙ্গালীর ধর্ম ও সংস্কৃতি’, ‘বাঙ্গালীর জীবন ও সাহিত্য’।
— তিনি বাংলার ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে গবেষণার জন্য বিশেষভাবে খ্যাতি অর্জন করেন।
— মৃত্যু: ১৯৮১ সালে কলকাতায়।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ খ) আর সি মজুমদার: তিনি ছিলেন একজন খ্যাতিমান ইতিহাসবিদ, তবে তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো ‘Ancient Indian Colonies in the Far East’, ‘History of the Freedom Movement in India’ প্রভৃতি। ‘বাঙ্গালীর ইতিহাস’ তাঁর লেখা নয়।
✗ গ) অধ্যাপক আব্দুল করিম: তিনি বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ ছিলেন, তবে তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো ‘মুসলিম বাংলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস’, ‘বাংলাদেশের ইতিহাস’ প্রভৃতি। ‘বাঙ্গালীর ইতিহাস’ তাঁর লেখা নয়।
✗ ঘ) অধ্যাপক সুনীতিকুমার সেন: তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট ভাষাবিদ ও সাহিত্যিক, তবে তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো ‘বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস’, ‘বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশ’ প্রভৃতি। ‘বাঙ্গালীর ইতিহাস’ তাঁর লেখা নয়।
উৎস:
— নীহাররঞ্জন রায়, ‘বাঙ্গালীর ইতিহাস’ (প্রথম প্রকাশ: ১৯৪৯, কলকাতা)
— আব্দুল করিম, ‘বাংলাদেশের ইতিহাস: প্রাচীন যুগ’ (বাংলা একাডেমি)
— আর সি মজুমদার, ‘History of Ancient Bengal’ (কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশনা)
— সুনীতিকুমার সেন, ‘বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস’ (কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়)