ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) প্রাকৃত
বাংলা ভাষার উদ্ভব সম্পর্কিত প্রেক্ষাপট:
বাংলা ভাষা ইন্দো-আর্য ভাষা পরিবারের পূর্বাঞ্চলীয় শাখার অন্তর্গত। এটি মূলত মধ্য ইন্দো-আর্য ভাষাগুলোর বিবর্তনের ফলাফল। প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষা হিসেবে সংস্কৃত ছিল আদর্শ ভাষা, কিন্তু সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা হিসেবে প্রাকৃত ভাষাগুলো বিকশিত হয়েছিল। বাংলা ভাষার উদ্ভব হয়েছে প্রাকৃত ভাষাগুলোর মধ্য থেকে, বিশেষত মাগধী প্রাকৃত থেকে।
**প্রাকৃত সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— প্রাকৃত শব্দটির অর্থ হলো "প্রাকৃতিক" বা "সাধারণ মানুষের ভাষা"। এটি সংস্কৃতের মতো নিয়মশৃঙ্খলাবদ্ধ ছিল না, বরং ছিল সহজ ও স্বাভাবিক ভাষা।
— প্রাকৃত ভাষাগুলো খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ শতক থেকে খ্রিস্টীয় ১ম শতকের মধ্যে বিকশিত হয়েছিল। এ সময় মানুষের মুখের ভাষা হিসেবে সংস্কৃতের পরিবর্তে প্রাকৃতের প্রচলন বৃদ্ধি পায়।
— মাগধী প্রাকৃত ছিল প্রাচীন বাংলা অঞ্চলের প্রধান প্রাকৃত ভাষা। পরবর্তীকালে এটি থেকে বাংলা ভাষার উদ্ভব ঘটে।
— প্রাকৃত ভাষাগুলোর মধ্য থেকে আরও কয়েকটি ভাষা যেমন অর্ধমাগধী, মহারাষ্ট্রী প্রাকৃত ইত্যাদি বিকশিত হয়েছিল, যেগুলো থেকে মারাঠি, গুজরাটি প্রভৃতি ভাষার উদ্ভব ঘটে।
**সংস্কৃত সম্পর্কে তথ্য:**
— সংস্কৃত ছিল প্রাচীন ভারতের একটি আদর্শ ও সাহিত্যিক ভাষা। বৈদিক সংস্কৃত থেকে পরবর্তীকালে ক্লাসিক্যাল সংস্কৃতের উদ্ভব ঘটে।
— সংস্কৃত ছিল নিয়মশৃঙ্খলাবদ্ধ ও ব্যাকরণসম্মত ভাষা। এটি সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা ছিল না, বরং ধর্মীয় ও সাহিত্যিক কাজে ব্যবহৃত হতো।
— বাংলা ভাষার উদ্ভব সংস্কৃত থেকে সরাসরি হয়নি, বরং প্রাকৃতের মাধ্যমে বিবর্তিত হয়ে হয়েছে। সংস্কৃত থেকে বাংলা ভাষার উদ্ভব ঘটেনি বলে ভাষাবিদদের মত।
**পালি সম্পর্কে তথ্য:**
— পালি ছিল বৌদ্ধ ধর্মের ধর্মগ্রন্থগুলোর ভাষা। এটি মূলত প্রাকৃত ভাষাগুলোর একটি রূপ ছিল, যা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের দ্বারা ব্যবহৃত হতো।
— পালি ভাষা মূলত ধর্মীয় গ্রন্থের ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হতো, সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা ছিল না।
— পালি থেকে বাংলা ভাষার উদ্ভব ঘটেনি। পালি ভাষা থেকেই থাই, লাও প্রভৃতি ভাষার উদ্ভব ঘটেছে।
**অপ্রভ্রংশ সম্পর্কে তথ্য:**
— অপ্রভ্রংশ হলো প্রাকৃত ভাষাগুলোর পরবর্তী বিবর্তিত রূপ। খ্রিস্টীয় ৬ষ্ঠ থেকে ১২শ শতকের মধ্যে অপ্রভ্রংশ ভাষাগুলো বিকশিত হয়েছিল।
— অপ্রভ্রংশ থেকে বাংলা, হিন্দি, উর্দু প্রভৃতি ভাষার উদ্ভব ঘটেছে। তবে বাংলা ভাষার উদ্ভব সরাসরি অপ্রভ্রংশ থেকে নয়, বরং অপ্রভ্রংশের পূর্ববর্তী স্তর প্রাকৃত থেকেই ঘটেছে।
— অপ্রভ্রংশ ছিল প্রাকৃতের পরবর্তী বিবর্তিত রূপ, তাই বাংলা ভাষার উদ্ভবের প্রাথমিক স্তর হিসেবে প্রাকৃতকে বিবেচনা করা হয়।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ ক) সংস্কৃত: সংস্কৃত ছিল আদর্শ ও সাহিত্যিক ভাষা, সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা ছিল না। বাংলা ভাষা সংস্কৃত থেকে সরাসরি উদ্ভূত হয়নি