ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) আইন-ই-আকবরী
বাংলা নামের উৎপত্তি সম্পর্কিত তথ্য প্রাচীন মুঘল যুগের ঐতিহাসিক গ্রন্থসমূহে উল্লেখিত হয়েছে। বিশেষত মুঘল সম্রাটদের প্রশাসনিক দলিল ও ইতিহাস গ্রন্থে বাংলা অঞ্চলের নামকরণের কারণ বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
**আইন-ই-আকবরী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— মুঘল সম্রাট আকবরের প্রধানমন্ত্রী ও প্রখ্যাত ঐতিহাসিক আবুল ফজল ইবনে মুবারক রচিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও ঐতিহাসিক গ্রন্থ।
— এটি মূলত "আইন-ই-আকবরী" নামে পরিচিত, যার অর্থ "আকবরের আইন" বা "আকবরের ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি"।
— গ্রন্থটি পাঁচটি প্রধান অংশে বিভক্ত:
১) মানব জাতির ইতিহাস ও রাজাদের বিবরণ
২) আকবরের প্রশাসনিক ব্যবস্থা
৩) রাজস্ব ব্যবস্থা ও ভূমি রাজস্ব নীতি
৪) সামরিক ব্যবস্থা ও সেনাবাহিনীর বিবরণ
৫) বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের বর্ণনা
— তৃতীয় অংশে বাংলা অঞ্চলের ভূমি ব্যবস্থা, রাজস্ব আদায় পদ্ধতি এবং অঞ্চলটির নামকরণের কারণ বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে।
— আবুল ফজল উল্লেখ করেছেন যে, বাংলা অঞ্চলের নামকরণ হয়েছে "বাঙ্গালা" শব্দ থেকে, যার অর্থ ছিল "বঙ্গ দেশের অধিবাসী" বা "বঙ্গ অঞ্চলের মানুষ"।
— তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মুঘল আমলে বাংলা অঞ্চলটি "সুবাহ বাংলা" নামে পরিচিত ছিল, যার অর্থ ছিল বাংলার প্রদেশ।
**বাংলা নামের উৎপত্তি সম্পর্কিত অন্যান্য গ্রন্থের তুলনা:**
— **আকবরনামা** (লিখেছেন আবুল ফজল): এটি মূলত আকবরের জীবনী ও রাজত্বকালের বিবরণ। এতে বাংলা অঞ্চলের প্রশাসনিক বিবরণ থাকলেও নামকরণের উৎপত্তি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা নেই।
— **আলমগীরনামা** (লিখেছেন মুহাম্মদ সাকি মুস্তয়াদ খান): এটি মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের রাজত্বকালের বিবরণ। এতে বাংলা অঞ্চলের প্রশাসনিক বিবরণ থাকলেও নামকরণের উৎপত্তি সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য তথ্য নেই।
— **তুজুক-ই-আকবরী** (লিখেছেন নিজামুদ্দিন আহমদ): এটি আকবরের জীবনীমূলক গ্রন্থ হলেও প্রশাসনিক বিবরণের চেয়ে ব্যক্তিগত ঘটনাবলি বেশি বর্ণিত হয়েছে। বাংলা নামের উৎপত্তি সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য তথ্য এতে পাওয়া যায় না।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) আলমগীরনামা: মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের রাজত্বকালের বিবরণ। বাংলা নামের উৎপত্তি সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য তথ্য নেই।
✗ গ) আকবরনামা: আকবরের জীবনী ও রাজত্বকালের বিবরণ। প্রশাসনিক বিবরণ থাকলেও নামকরণের উৎপত্তি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা নেই।
✗ ঘ) তুজুক-ই-আকবরী: আকবরের জীবনীমূলক গ্রন্থ। প্রশাসনিক বিবরণের চেয়ে ব্যক্তিগত ঘটনাবলি বেশি বর্ণিত হয়েছে। বাংলা নামের উৎপত্তি সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য তথ্য নেই।
উৎস:
— আবুল ফজল, *আইন-ই-আক