ব্যাখ্যা
‘বাংলা গদ্যের জনক’ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
– তিনি বাংলা সাহিত্যে যতি বা বিরাম চিহ্নের প্রবর্তন করে গদ্যের অনুশীলন পর্যায়ে সুশৃঙ্খলতা ও পরিমিতিবোধ সঞ্চার করে বাংলা গদ্যরীতিকে এক অনন্য উচ্চতায় অধিষ্ঠিত করেন।
– সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যে অগাধ পাণ্ডিত্যের জন্য সংস্কৃত কলেজ থেকে ১৮৩৯ সালে তিনি বিদ্যাসাগর উপাধি লাভ করেন।
তাঁর কিছু শিক্ষামূলক গ্রন্থ
– বর্ণপরিচয় (১ম ও ২য় ভাগ ; ১৮৫৫)
– ঋজুপাঠ (১ম, ২য় ও ৩য় ভাগ ; ১৮৫১-৫২)
– সংস্কৃত ব্যাকরণের উপক্রমণিকা (১৮৫১)
– ব্যাকরণ কৌমুদী (১৮৫৩)
তাঁর রচিত মৌলিক গ্রন্থ
– সংস্কৃত ভাষা ও সংস্কৃত সাহিত্য বিষয়ক প্রস্তাব (১৮৫৩)
– বিধবা বিবাহ চলিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক প্রস্তাব (১৮৫৫)
– বহুবিবাহ রহিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক প্রস্তাব (প্রথম খন্ড ১৮৭১, ২য় খন্ড ১৮৭৩)
– ‘অতি অল্প হইল’ এবং ‘আবার অতি অল্প হইল’ দুখানা পুস্তক ১৮৭৩, বিধবা বিবাহ বিরোধী পণ্ডিতদের প্রতিবাদের উত্তরে ‘কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য’ ছদ্মনামে রচিত।
– ব্রজবিলাস, যৎকিঞ্চিৎ অপূর্ব্ব মহাকাব্য (নভেম্বর, ১৮৮৪) – “কবিকুলতিলকস্য কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য” ছদ্মনামে রচিত। বিধবাবিবাহের বিরুদ্ধে ব্রজনাথ বিদ্যারত্নের রচনার প্রত্যুত্তরে লিখিত হয়।
– রত্নপরীক্ষা (১৮৮৬)
– প্রভাবতী সম্ভাষণ (সম্ভবত ১৮৬৩)
– জীবন-চরিত (১৮৯১ ; মরণোত্তর প্রকাশিত)
– শব্দমঞ্জরী (১৮৬৪)
– নিষ্কৃতি লাভের প্রয়াস (১৮৮৮)
উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; সাহিত্যপাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (২০২০-২১ সংস্করণ); বাংলাপিডিয়া ।