ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) ব্রাহ্মী লিপি
বাংলা লিপির উৎস সম্পর্কে আলোচনা করতে গেলে প্রথমেই উল্লেখ করতে হয় প্রাচীন ভারতীয় লিপি ব্যবস্থার কথা। বাংলা লিপির উদ্ভব হয়েছে ব্রাহ্মী লিপি থেকে, যা ভারতবর্ষের প্রাচীনতম লিখন পদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃত।
**ব্রাহ্মী লিপি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— ব্রাহ্মী লিপির উৎপত্তি হয়েছে খ্রিস্টপূর্ব ৩য় শতাব্দীতে মৌর্য সাম্রাজ্যের সময়কালে। সম্রাট অশোকের শিলালিপিগুলো ব্রাহ্মী লিপিতে লেখা হয়েছিল।
— ব্রাহ্মী লিপি ছিল একটি সিলেবিক লিপি, যেখানে প্রতিটি বর্ণ একটি ধ্বনির প্রতিনিধিত্ব করত। এটি ছিল ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন লিখন পদ্ধতির মূল উৎস।
— ব্রাহ্মী লিপি থেকে উদ্ভূত হয়েছে বেশ কয়েকটি ভারতীয় লিপি, যেমন দেবনাগরী, গুজরাটি, বাংলা, গুরমুখি, তামিল, তেলুগু ইত্যাদি।
— বাংলা লিপির উদ্ভব হয়েছে ব্রাহ্মী লিপির পূর্ববর্তী রূপ থেকে, যা পরবর্তীতে পালি লিপি এবং তারপর বাংলা লিপিতে রূপান্তরিত হয়।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) সংস্কৃত লিপি: সংস্কৃত ভাষা একটি প্রাচীন ভাষা হলেও এর নিজস্ব কোনো লিপি ছিল না। সংস্কৃত লেখা হতো ব্রাহ্মী লিপি বা তার পরবর্তী রূপগুলোর মাধ্যমে।
✗ খ) চীনা লিপি: চীনা লিপি সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি লিখন পদ্ধতি, যা ভারতীয় লিপির সাথে সম্পর্কিত নয়। এটি চীনা ভাষার জন্য ব্যবহৃত হয়।
✗ গ) আরবী লিপি: আরবী লিপি সেমিটিক ভাষা পরিবারের অন্তর্গত এবং এটি ভারতীয় উপমহাদেশে ব্যবহৃত হয় না। বাংলা লিপির সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
উৎস:
— ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, "বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত"
— ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়, "বাংলা ভাষা ও সাহিত্য"
— "ভারতীয় লিপি পরিচিতি", জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড