ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) স্বর্ণকুমারী দেবী
বাংলা সাহিত্যে মহিলা সাহিত্যিকদের অবদান সম্পর্কে ধারণা লাভের জন্য এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। উনিশ শতকের শেষভাগ থেকে বিশ শতকের প্রথমার্ধ পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যে মহিলা লেখকদের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে উপন্যাস রচনায় তাঁদের অবদান বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে।
**স্বর্ণকুমারী দেবী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— স্বর্ণকুমারী দেবী ছিলেন ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলা সাহিত্যের একজন বিশিষ্ট মহিলা সাহিত্যিক।
— তিনি ১৮৫৫ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ব্রাহ্ম সমাজের প্রতিষ্ঠাতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা ছিলেন।
— তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক। তাঁর প্রথম উপন্যাস "দীপনির্বাণ" প্রকাশিত হয় ১৮৭৬ সালে।
— স্বর্ণকুমারী দেবী বিভিন্ন সামাজিক ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে উপন্যাস রচনা করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে "মালতী", "বিচিত্রা", "স্নেহলতা" প্রভৃতি।
— তিনি ছিলেন একজন বহুমুখী প্রতিভাধর ব্যক্তিত্ব। তিনি সঙ্গীতজ্ঞ হিসেবেও পরিচিত ছিলেন এবং ব্রাহ্ম সমাজের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
— স্বর্ণকুমারী দেবী ১৯৩২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) বেগম রোকেয়া: তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট নারী অধিকার কর্মী, শিক্ষাবিদ এবং সাহিত্যিক। তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে "সুলতানার স্বপ্ন"। তবে তিনি উপন্যাস রচনায় অগ্রণী ছিলেন না।
✗ খ) কাদম্বরী দেবী: তিনি ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্ত্রী। তিনি ছিলেন একজন সঙ্গীতজ্ঞ ও সাহিত্যিক। তবে তিনি উপন্যাস রচনায় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেননি।
✗ ঘ) নূরুন্নাহার ফয়জুন্নেসা: তিনি ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ ও সমাজ সংস্কারক। তিনি উপন্যাস রচনায় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেননি।
উৎস:
— বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মুহম্মদ আবদুল হাই ও আনিসুজ্জামান
— বাংলা সাহিত্যের মহিলা সাহিত্যিক, সম্পাদনা: ড. সুকুমার সেন
— স্বর্ণকুমারী দেবীর রচনাবলী, বিভিন্ন সংস্করণ