ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) কৃষ্ণকুমারী
বাংলা সাহিত্যে নাটক ধারার প্রারম্ভিক যুগে রচিত প্রথম সার্থক ট্রাজেডি নাটক হিসেবে "কৃষ্ণকুমারী" বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। উনিশ শতকের বাংলা নাট্যসাহিত্যে এই নাটকটি একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।
**কৃষ্ণকুমারী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— রচয়িতা: মাইকেল মধুসূদন দত্ত (১৮২৪–১৮৭৩)। তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ও নাট্যকার হিসেবে পরিচিত।
— রচনাকাল: ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়। এটি মধুসূদনের প্রথম বাংলা নাটক।
— বিষয়বস্তু: রাজপুত রাজকন্যা কৃষ্ণকুমারীর জীবনের ট্রাজেডি নিয়ে রচিত। রাজা বিক্রমাদিত্যের কন্যা কৃষ্ণকুমারীকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও পারিবারিক দ্বন্দ্বের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে।
— বৈশিষ্ট্য:
— এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ট্রাজেডি নাটক হিসেবে স্বীকৃত।
— নাটকটিতে গ্রিক ট্রাজেডির প্রভাব লক্ষ্য করা যায়, বিশেষ করে এর গঠন ও বিষয়বস্তুতে।
— ভাষা ও ছন্দের দিক থেকে মধুসূদনের স্বকীয়তা প্রকাশ পেয়েছে।
— সামাজিক ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
— প্রভাব: পরবর্তীকালে বাংলা নাট্যসাহিত্যে ট্রাজেডির ধারা বিকাশে "কৃষ্ণকুমারী" গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ খ) শর্মিষ্ঠা: এটি মধুসূদনের দ্বিতীয় বাংলা নাটক। এটি ট্রাজেডি নয়, বরং একটি সামাজিক নাটক। এতে রাজা পুরুরবা ও অপ্সরা শর্মিষ্ঠার প্রেমকাহিনী বর্ণিত হয়েছে।
✗ গ) সধবার একাদশী: এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি প্রহসনমূলক নাটক। এটি ট্রাজেডি নয়, বরং হাস্যরসাত্মক ও সামাজিক ব্যঙ্গাত্মক রচনা।
✗ ঘ) নীলদর্পণ: এটি দীনবন্ধু মিত্র রচিত একটি সামাজিক নাটক। এটি ইংরেজদের অত্যাচার ও নীলকরদের বিরুদ্ধে কৃষকদের প্রতিবাদের কাহিনী বর্ণনা করে। এটি ট্রাজেডি নয়, বরং সামাজিক প্রতিবাদমূলক নাটক।
উৎস:
— মাইকেল মধুসূদন দত্তের "কৃষ্ণকুমারী" নাটক (১৮৬১)।
— বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মুহম্মদ আবদুল হাই ও আনিসুজ্জামান।
— বাংলা নাটকের ইতিহাস, ড. সৈয়দ আলী আহসান।