ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) ৯ মে ১৯৫৪
বাংলাভাষাকে পাকিস্তান গণপরিষদ রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা:
১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির পর পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে ভাষা ও সংস্কৃতির পার্থক্য প্রকট হয়ে ওঠে। পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের অধিকাংশই বাংলাভাষী হওয়া সত্ত্বেও পাকিস্তান সরকার উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেষ্টা করে। এর বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয়, যার চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে। পরবর্তীতে গণপরিষদে বাংলাভাষার স্বীকৃতি আদায়ের জন্য দীর্ঘ সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হয়।
**বাংলাভাষা স্বীকৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— **১৯৪৮ সালের মার্চ মাস:** পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা করেন। এর প্রতিবাদে পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়।
— **১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি:** ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা বাংলাভাষার দাবিতে রাজপথে নামে। পুলিশের গুলিতে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেক ছাত্র-যুবক শহীদ হন। এই ঘটনা ইতিহাসে একুশে ফেব্রুয়ারি নামে পরিচিত।
— **১৯৫৪ সালের নির্বাচন:** যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে জয়লাভ করে এবং বাংলাভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।
— **৯ মে ১৯৫৪:** পাকিস্তান গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাভাষাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্ত পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের দীর্ঘ সংগ্রামের ফসল হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ খ) ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৩: এই তারিখটি ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে পালিত হতো, কিন্তু গণপরিষদে বাংলাভাষার স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।
✗ গ) ১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৬: এই তারিখটি পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান প্রণয়নের তারিখ। সংবিধানে বাংলাভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু গণপরিষদের অধিবেশন ছিল ৯ মে ১৯৫৪ সালে।
✗ ঘ) ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২: এই তারিখটি ভাষা আন্দোলনের শহীদ দিবস হিসেবে পালিত হয়, কিন্তু গণপরিষদে বাংলাভাষার স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।
উৎস:
- বাংলাদেশ সরকারের প্রকাশিত "ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস" (২০১২ সংস্করণ)
- পাকিস্তান গণপরিষদের কার্যবিবরণী (৯ মে ১৯৫৪)
- "বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস" (ড. মোহাম্মদ হাননান)