সঠিক উত্তর: (ক) ১৩৬ তম সদস্য
বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্য পদ লাভের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও বৈশ্বিক শান্তিরক্ষায় নিজেকে যুক্ত করার ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটে। জাতিসংঘের সদস্য পদ লাভের মাধ্যমে বাংলাদেশ বৈশ্বিক রাজনীতিতে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করে এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।
**জাতিসংঘে বাংলাদেশের সদস্য পদ লাভ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— বাংলাদেশ জাতিসংঘের **১৩৬তম সদস্য** হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের সদস্য পদ লাভের প্রস্তাবটি গৃহীত হয় **১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর**।
— জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে তখন দায়িত্ব পালন করছিলেন **আবু সাঈদ চৌধুরী**। তিনি পরবর্তীতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
— বাংলাদেশ জাতিসংঘে সদস্য পদ লাভের জন্য আবেদন করে **১৯৭২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর**। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বাংলাদেশের সদস্য পদ লাভের প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয় **১৯৭৪ সালের ২৫ আগস্ট**।
— জাতিসংঘের সদস্য পদ লাভের মাধ্যমে বাংলাদেশ বৈশ্বিক রাজনীতিতে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করে এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনেও বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
— বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্য পদ লাভের পূর্বে **পাকিস্তানের সদস্য** হিসেবে জাতিসংঘের সদস্য ছিল। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে জাতিসংঘে যোগদান করে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ খ) ১৩৭ তম: বাংলাদেশের সদস্য পদ লাভের পর জাতিসংঘের সদস্য সংখ্যা ছিল ১৩৬। পরবর্তীতে আরও কয়েকটি দেশ যোগদান করায় সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, তবে বাংলাদেশ ছিল ১৩৬তম সদস্য।
✗ গ) ১৩৮ তম: এটি বাংলাদেশের সদস্য পদ লাভের পর জাতিসংঘের সদস্য সংখ্যা ছিল না। জাতিসংঘের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে এই সংখ্যা পরিবর্তিত হয়েছে।
✗ ঘ) ১৩৯ তম: এটি বাংলাদেশের সদস্য পদ লাভের পর জাতিসংঘের সদস্য সংখ্যা ছিল না। জাতিসংঘের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে এই সংখ্যা পরিবর্তিত হয়েছে।
**উৎস:**
— বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন।
— জাতিসংঘের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (www.un.org)।
— বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও জাতিসংঘে যোগদান সম্পর্কিত বিভিন্ন ঐতিহাসিক দলিল।