ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) ১৯৭২ সালে
বাংলাদেশের কমনওয়েলথ সদস্যপদ লাভ সম্পর্কিত প্রাসঙ্গিক ভূমিকা:
বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে বিভিন্ন বহুপাক্ষিক সংস্থায় যোগদান শুরু করে। কমনওয়েলথ অব নেশনস এমনই একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা, যেখানে সদস্য দেশগুলো পারস্পরিক সহযোগিতা ও উন্নয়নের মাধ্যমে অগ্রসর হয়। বাংলাদেশের কমনওয়েলথ সদস্যপদ লাভের ঘটনাটি দেশের কূটনৈতিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক।
**বাংলাদেশ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে সম্পর্ক স্থাপনে সচেষ্ট হয়।
— কমনওয়েলথ অব নেশনস হলো যুক্তরাজ্য নেতৃত্বাধীন একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, যেখানে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অধীনস্থ দেশগুলো সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। পরবর্তীতে অন্যান্য দেশও সদস্য হতে পারে।
— বাংলাদেশ কমনওয়েলথের সদস্য হওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করে এবং ১৯৭২ সালের ১৮ এপ্রিল কমনওয়েলথের সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।
— বাংলাদেশ কমনওয়েলথের সদস্য হওয়া দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল। এটি বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল।
— কমনওয়েলথ সদস্য হওয়ার ফলে বাংলাদেশ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা লাভ করে, যেমন শিক্ষা, বাণিজ্য, প্রযুক্তি স্থানান্তর ইত্যাদি।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ খ) ১৯৭৩ সালে: বাংলাদেশ ১৯৭৩ সালে জাতিসংঘের সদস্য হয়, কমনওয়েলথের নয়। এজন্য এই সালটি বিভ্রান্তিকর।
✗ গ) ১৯৭৪ সালে: ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ ইসলামিক সম্মেলন সংস্থা (OIC)-এর সদস্য হয়, কমনওয়েলথের নয়।
✗ ঘ) ১৯৭৫ সালে: ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচিত হয়, কমনওয়েলথ সদস্যপদ নয়।
উৎস:
— বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (www.mofa.gov.bd)
— কমনওয়েলথ সচিবালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (www.thecommonwealth.org)
— "বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্ক" (লেখক: ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী)