সঠিক উত্তর: (গ) নাফ
বাংলাদেশ ও মিয়ানমার (বার্মা) রাষ্ট্রদ্বয়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক সীমানা নির্ধারণকারী প্রধান নদী হলো নাফ নদী। এই নদী দুই দেশের মধ্যে প্রাকৃতিক সীমান্ত হিসেবে কাজ করে।
**নাফ নদী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— **অবস্থান ও প্রবাহপথ**: নাফ নদী বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব অংশে অবস্থিত এবং এটি বাংলাদেশের টেকনাফ উপজেলা থেকে শুরু হয়ে মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে মিলিত হয়েছে।
— **দৈর্ঘ্য**: নাফ নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৬২ কিলোমিটার।
— **সীমান্ত নির্ধারণ**: এই নদী বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলা এবং মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের মধ্যে প্রাকৃতিক সীমান্ত হিসেবে কাজ করে।
— **বাণিজ্যিক গুরুত্ব**: নাফ নদীর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে স্থানীয় বাণিজ্য ও যোগাযোগ পরিচালিত হয়। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
— **পরিবেশগত গুরুত্ব**: নাফ নদীর অববাহিকা অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের জীববৈচিত্র্য রয়েছে, যা পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) গোমতী: গোমতী নদী বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত এবং এটি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সাথে সম্পর্কিত। এটি বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী নয়।
✗ খ) জিঞ্জিরাম: জিঞ্জিরাম নদী বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত এবং এটি ভারতের সাথে সম্পর্কিত। এটি বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী নয়।
✗ ঘ) কর্ণফুলী: কর্ণফুলী নদী বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত এবং এটি চট্টগ্রাম শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়। এটি বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী নয়।
উৎস:
— বাংলাদেশ সরকারের ভূগোল ও পরিবেশ বিষয়ক পাঠ্যপুস্তক।
— বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
— আন্তর্জাতিক সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত সরকারি দলিল।