সঠিক উত্তর: (খ) ১৯৭৩
বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন সম্পর্কিত পরীক্ষা-প্রাসঙ্গিক ভূমিকা:
বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হলো বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন। দেশের পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের জন্য এই কমিশন গঠিত হয়। সরকারি চাকরির পরীক্ষায় সাধারণ জ্ঞান অংশে এই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত প্রশ্ন প্রায়ই আসে।
**বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— প্রতিষ্ঠাকাল: বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন **১৯৭৩ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি** প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি বাংলাদেশ সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়।
— উদ্দেশ্য: পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, চিকিৎসা, কৃষি ও শিল্পক্ষেত্রে অবদান রাখা।
— প্রধান কার্যালয়: ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের প্রধান কার্যালয়।
— প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান: ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া (বাংলাদেশের বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী)।
— প্রধান কার্যাবলি:
— পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনা।
— চিকিৎসা ক্ষেত্রে রেডিওআইসোটোপ উৎপাদন ও ব্যবহার।
— কৃষিক্ষেত্রে বিকিরণ প্রযুক্তির প্রয়োগ।
— গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা।
— উল্লেখযোগ্য প্রকল্প:
— রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র (পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন)।
— পারমাণবিক চিকিৎসা কেন্দ্র (ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহীতে অবস্থিত)।
— আন্তর্জাতিক সহযোগিতা: আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) এর সদস্য।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ ক) ১৯৭২: বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় গঠিত হলেও বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
✗ গ) ১৯৭৫: ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে প্রতিষ্ঠান গঠনের প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়।
✗ ঘ) ১৯৯৭: ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণীত হলেও কমিশন প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
উৎস:
— বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট: [www.baec.gov.bd](http://www.baec.gov.bd)
— বাংলাদেশ সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক প্রতিবেদন (২০২২-২০২৩)
— "বাংলাদেশের সংবিধান ও প্রতিষ্ঠান" — অধ্যাপক আবু সাইয়িদ (২০১৮ সংস্করণ)