ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) সেচ প্রকল্প
বাংলাদেশের কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে "জি-কে প্রকল্প" একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হয়। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
**জি-কে প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— **পূর্ণরূপ**: জি-কে প্রকল্পের পূর্ণরূপ হলো **"গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প"**।
— **অবস্থান**: এই প্রকল্পটি মূলত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যশোর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, নড়াইল, মাগুরা, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলায় বিস্তৃত।
— **উদ্দেশ্য**: প্রকল্পটির প্রধান উদ্দেশ্য ছিল গঙ্গা নদীর পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে কপোতাক্ষ নদকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং এর মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ১ লক্ষ ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা প্রদান করা।
— **শুরু**: প্রকল্পটি ১৯৫৪ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সরকারের উদ্যোগে শুরু হয় এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকারের অধীনে সম্প্রসারণ করা হয়।
— **অংশ**: প্রকল্পটির প্রধান অংশ হলো **ফারাক্কা বাঁধের** মাধ্যমে গঙ্গার পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ এবং কপোতাক্ষ নদকে পুনরুদ্ধার করা।
— **ফলাফল**: প্রকল্পটির মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ভূগর্ভস্থ পানির উপর নির্ভরতা কমেছে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ **ক) জলবিদ্যুৎ প্রকল্প**: জি-কে প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, বরং সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন। তাই এটি ভুল।
✗ **খ) নদী নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প**: প্রকল্পটির মাধ্যমে নদী নিয়ন্ত্রণ করা হলেও এটি মূলত সেচ প্রকল্প হিসেবে পরিচিত। তাই এটি আংশিক সঠিক হলেও প্রধান উদ্দেশ্য নয়।
✗ **গ) জল পরিবহন প্রকল্প**: প্রকল্পটির মাধ্যমে জল পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হয়নি, তাই এটি ভুল।
**উৎস:**
— বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও প্রকাশনা।
— "বাংলাদেশের অর্থনীতি" (ড. কাজী শাহনূর হোসেন)।
— বিভিন্ন সরকারি দলিল ও প্রতিবেদন।