ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) প্রাক-মৌসুমী বায়ু ঋতুতে
কালবৈশাখির ঝড় সম্পর্কিত ভূমিকা:
বাংলাদেশের আবহাওয়া ও জলবায়ুতে কালবৈশাখি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এটি মূলত প্রাক-মৌসুমী বায়ু ঋতুতে সংঘটিত হয় এবং কৃষি ও জনজীবনে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে।
কালবৈশাখির ঝড় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— কালবৈশাখি হলো বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গ্রীষ্মকালে সংঘটিত এক ধরনের স্থানীয় বজ্রঝড়।
— এটি সাধারণত মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে সংঘটিত হয়, যা প্রাক-মৌসুমী বায়ু ঋতুর সময়কাল।
— এই ঝড়ের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো তীব্র বজ্রপাত, শিলাবৃষ্টি, দমকা হাওয়া এবং কখনো কখনো টর্নেডো।
— কালবৈশাখি সৃষ্টির প্রধান কারণ হলো ভূমির উপরিভাগের তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং আর্দ্র বায়ুর উপস্থিতি।
— এই ঝড়ের ফলে কৃষিক্ষেত্রে ক্ষতি হলেও, এটি গ্রীষ্মকালীন ফসল যেমন আম, জাম ইত্যাদির জন্য উপকারী বৃষ্টিপাত প্রদান করে।
— বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল এবং মধ্যাঞ্চলে কালবৈশাখি বেশি দেখা যায়।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ ক) মৌসুমী বায়ু ঋতুতে: মৌসুমী বায়ু ঋতু হলো জুন থেকে সেপ্টেম্বর, যখন কালবৈশাখি হয় না। এই সময়ে সাধারণত মৌসুমী বৃষ্টিপাত হয়।
✗ খ) শীতকালে: শীতকালে বাংলাদেশে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ থাকে এবং বৃষ্টিপাত কম হয়, ফলে কালবৈশাখির সম্ভাবনা থাকে না।
✗ গ) মৌসুমী বায়ু ঋতুর পরবর্তী সময়ে: মৌসুমী বায়ু ঋতুর পরবর্তী সময় হলো অক্টোবর-নভেম্বর, যখন বর্ষাকাল শেষ হয়ে যায় এবং শীতকাল শুরু হয়। এই সময়েও কালবৈশাখি হয় না।
উৎস:
— বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি) এর প্রকাশিত তথ্য।
— ভূগোল ও পরিবেশ বিষয়ক বিভিন্ন পাঠ্যপুস্তক।
— বাংলাদেশের জলবায়ু ও আবহাওয়া বিষয়ক গবেষণা প্রবন্ধ।