ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) ১৫ নভেম্বর ২০০৭
**সিডর সম্পর্কিত ভূমিকা:**
বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় হিসেবে পরিচিত **সিডর**। এটি ২০০৭ সালের নভেম্বর মাসে উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে। সরকারি চাকরির পরীক্ষায় (BCS, Bank, Primary, NTRCA) সাধারণ জ্ঞান অংশে ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ সম্পর্কিত প্রশ্ন প্রায়ই আসে। সিডর সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা পরীক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
---
**সিডর সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— **ঘূর্ণিঝড় সিডর** ছিল একটি **প্রবল ঘূর্ণিঝড়**, যা **২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর** বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলে (খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা জেলা) আঘাত হানে।
— **সিডর** নামটি ওমানের দেওয়া, যার অর্থ **"গোলাপ"**। এটি ছিল **উত্তর ভারত মহাসাগরের** একটি ঘূর্ণিঝড়।
— ঘূর্ণিঝড়টির **গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ২২০ কিলোমিটার**, যা **ক্যাটাগরি-৪** মাত্রার ঘূর্ণিঝড় হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ ছিল।
— **ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ:**
— মৃত্যু: প্রায় **৩,৫০০ জন** (সরকারি হিসাব অনুযায়ী)।
— ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ: প্রায় **২০ লক্ষ**।
— সম্পদহানি: প্রায় **১২ হাজার কোটি টাকা** (তৎকালীন হিসাব অনুযায়ী)।
— **ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা:** খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী, বরগুনা ও পিরোজপুর জেলা।
— **সিডরের প্রভাব:** ব্যাপকভাবে ধ্বংসস্তূপ সৃষ্টি হয়, বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, এবং কৃষিজমি তলিয়ে যায়।
— **সিডর পরবর্তী ব্যবস্থাপনা:**
— সরকার জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করে।
— আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় (জাতিসংঘ, বিভিন্ন দেশ) ত্রাণ সহায়তা প্রদান করে।
— দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
---
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ খ) ১৬ নভেম্বর ২০০৭: সিডর আঘাত হানে **১৫ নভেম্বর**, ১৬ নভেম্বর নয়। এই তারিখটি বিভ্রান্তিকর হতে পারে কারণ ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পরবর্তী কয়েকদিন পর্যন্ত স্থায়ী থাকে।
✗ গ) ১৭ নভেম্বর ২০০৭: এটি সিডরের প্রকৃত আঘাতের তারিখ নয়, বরং ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত মূল্যায়নের সময় হতে পারে।
✗ ঘ) ১৮ নভেম্বর ২০০৭: এটি সম্পূর্ণ ভুল তারিখ, কারণ সিডর আঘাত হানে **১৫ নভেম্বর**।
---
**উৎস:**
১. **বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর** – ঘূর্ণিঝড় সিডর সম্পর্কিত অফিসিয়াল প্রতিবেদন।
২. **দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর** – সিডর পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি ও ত্রাণ কার্যক্রম সম্পর্কিত তথ্য।
৩. **জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা** – সিডর পরবর্তী ত্রাণ সহায়তা সম্পর্কিত প্রতিবেদন।