ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) ফরিদপুর
বাংলাদেশে পাট উৎপাদনের গুরুত্ব ও ভূমিকা:
বাংলাদেশ পাট উৎপাদনে বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে এবং দেশের অর্থনীতিতে পাট একটি গুরুত্বপূর্ণ ফসল হিসেবে বিবেচিত। পাট বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসলগুলির মধ্যে অন্যতম, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সহায়ক। পাটের আঁশ থেকে তৈরি পণ্য যেমন ব্যাগ, সুতা, কার্পেট ইত্যাদি রপ্তানি করা হয়। বাংলাদেশ সরকার পাট শিল্পের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো "পাটকল পুনর্বাসন প্রকল্প" এবং "পাটজাত পণ্যের বহুমুখীকরণ"।
ফরিদপুর জেলা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— ফরিদপুর বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলের একটি জেলা, যা ঢাকা বিভাগের অন্তর্গত।
— জেলাটি পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত, যা পাট চাষের জন্য উপযোগী উর্বর মাটির জন্য পরিচিত।
— ফরিদপুর জেলায় প্রচুর পরিমাণে পাট উৎপাদিত হয়, যার কারণে এটি বাংলাদেশের প্রধান পাট উৎপাদনকারী জেলাগুলির মধ্যে অন্যতম।
— ফরিদপুরের পাট উচ্চমানসম্পন্ন হওয়ায় স্থানীয় ও জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
— জেলাটিতে বেশ কয়েকটি পাটকল রয়েছে, যা পাট থেকে বিভিন্ন ধরনের পণ্য উৎপাদন করে।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ খ) রংপুর: রংপুর জেলা উত্তরাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা হলেও এটি প্রধানত ধান উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত। পাট উৎপাদনে রংপুর জেলার অবদান উল্লেখযোগ্য নয়।
✗ গ) জামালপুর: জামালপুর জেলা উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত এবং এটি প্রধানত ধান ও অন্যান্য ফসল উৎপাদনের জন্য পরিচিত। পাট উৎপাদনে জামালপুর জেলার অবদান তুলনামূলকভাবে কম।
✗ ঘ) শেরপুর: শেরপুর জেলা উত্তরাঞ্চলের একটি জেলা হলেও এটি প্রধানত চা উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত। পাট উৎপাদনে শেরপুর জেলার অবদান উল্লেখযোগ্য নয়।
উৎস:
— বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) - কৃষি পরিসংখ্যান প্রতিবেদন
— বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (BJRI) - বার্ষিক প্রতিবেদন
— "বাংলাদেশের কৃষি" - ড. এম এ সাত্তার, জাতীয় কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট