ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) বোরো ধান
বাংলাদেশের কৃষি অর্থনীতি মূলত ধান উৎপাদনের উপর নির্ভরশীল। ধান বাংলাদেশের প্রধান খাদ্যশস্য এবং দেশের প্রায় ৮০% মানুষের প্রধান খাদ্য হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI) এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BBS) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বার্ষিক ধান উৎপাদনের প্রায় ৫৫-৬০% আসে বোরো মৌসুম থেকে।
**বোরো ধান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— **বোরো ধানের মৌসুম**: সাধারণত নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে বীজতলায় বীজ বপন করা হয় এবং মার্চ-এপ্রিল মাসে ফসল কাটা হয়। এটি একটি শুষ্ক মৌসুমের ধান।
— **উৎপাদনের পরিমাণ**: বাংলাদেশে বার্ষিক প্রায় ৩.৫ থেকে ৪ কোটি টন ধান উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে প্রায় ২ কোটি টন আসে বোরো মৌসুম থেকে, যা মোট উৎপাদনের প্রায় ৫৫-৬০%।
— **ভৌগোলিক বিস্তৃতি**: বোরো ধান প্রধানত বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল (রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী), মধ্যাঞ্চল (টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ) এবং দক্ষিণাঞ্চলের (বরিশাল, পটুয়াখালী) জেলাগুলোতে বেশি উৎপাদিত হয়।
— **উৎপাদন বৃদ্ধির কারণ**:
— উচ্চফলনশীল জাতের ব্যবহার (যেমন: ব্রি ধান২৮, ব্রি ধান২৯, ব্রি ধান৮৯)।
— সেচ ব্যবস্থার উন্নতি এবং সরকারি প্রণোদনা।
— কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারি সহায়তা।
**আউশ ধান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— **আউশ ধানের মৌসুম**: এটি একটি বর্ষাকালীন ধান, সাধারণত মার্চ-এপ্রিল মাসে বপন করা হয় এবং জুলাই-আগস্ট মাসে কাটা হয়।
— **উৎপাদনের পরিমাণ**: বাংলাদেশে বার্ষিক প্রায় ১৫-২০ লক্ষ টন আউশ ধান উৎপাদিত হয়, যা মোট উৎপাদনের প্রায় ৫-৭%।
— **ভৌগোলিক বিস্তৃতি**: প্রধানত উত্তর-পূর্বাঞ্চল (সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ) এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের (খুলনা, সাতক্ষীরা) জেলাগুলোতে বেশি উৎপাদিত হয়।
— **উৎপাদন কম হওয়ার কারণ**:
— বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে ফসলের ক্ষতি।
— সেচ ব্যবস্থার অভাব।
— কৃষকদের মধ্যে কম উৎসাহ।
**আমন ধান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— **আমন ধানের মৌসুম**: এটি একটি বর্ষাকালীন ধান, সাধারণত জুন-জুলাই মাসে বপন করা হয় এবং নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে কাটা হয়।
— **উৎপাদনের পরিমাণ**: বাংলাদেশে বার্ষিক প্রায় ১.২ থেকে ১.৫ কোটি টন আমন ধান উৎপাদিত হয়, যা মোট উৎপাদনের প্রায় ৩৫-৪০%।
— **ভৌগোলিক বিস্তৃতি**: প্রধানত দক্ষিণাঞ্চল (বরিশাল, পটুয়াখালী, খুলনা), মধ্যাঞ্চল (ফরিদপুর, রাজবাড়ী) এবং উত্তরাঞ্চলের