ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) ১১ (এগার) টি
বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য সম্পর্কিত ভূমিকা:
বাংলাদেশ সরকার দেশের ঐতিহ্যবাহী ও বিশেষ গুণসম্পন্ন পণ্যগুলোকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি প্রদানের জন্য ভৌগোলিক নির্দেশক (Geographical Indication - GI) নিবন্ধনের ব্যবস্থা করেছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের নির্দিষ্ট অঞ্চলের বিশেষ পণ্যগুলোকে সুরক্ষা প্রদান করা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে ১১টি পণ্য ভৌগোলিক নির্দেশকের স্বীকৃতি লাভ করেছে।
ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— **জামদানি** (২০১৬): বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী তাঁতবোনা শাড়ি, বিশেষভাবে ঢাকা জেলার ধামরাই ও তিতাবাড়ি অঞ্চলে তৈরি হয়। এটি ইউনেস্কো কর্তৃক মানবতার অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।
— **ইলিশ মাছ** (২০১৭): বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশ, বিশেষভাবে চাঁদপুর, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর ও শরীয়তপুর জেলায় ধরা হয়। এর স্বাদ ও গন্ধের জন্য বিখ্যাত।
— **খিরসাপাত আম** (২০১৯): রাজশাহী অঞ্চলের বিখ্যাত আমের জাত, যার স্বাদ ও গন্ধ অতুলনীয়।
— **দিনাজপুর কাটারিভোগ চাল** (২০১৯): দিনাজপুর জেলায় উৎপন্ন সুগন্ধি চাল, যা উচ্চমানের এবং সুস্বাদু।
— **ঢাকাই মসলিন** (২০২০): প্রাচীনকালে ঢাকায় তৈরি হতো অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও মূল্যবান মসলিন কাপড়, যা পুনরায় উৎপাদন শুরু হয়েছে।
— **বাংলার গুড়** (২০২১): বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উৎপন্ন বিশেষ ধরনের গুড়, যা খাদ্য ও মিষ্টান্ন তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
— **রংপুরের শতরঞ্জি** (২০২১): রংপুর জেলায় তৈরি হস্তশিল্পজাত পণ্য, যা মেঝেতে বিছানোর জন্য ব্যবহৃত হয়।
— **নাটোরের কাঁচাগোল্লা** (২০২১): নাটোর জেলার বিখ্যাত মিষ্টি, যা দুধ ও চিনি দিয়ে তৈরি হয়।
— **চট্টগ্রামের মেজবানী গরু** (২০২২): চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিশেষ জাতের গরু, যা মাংসের জন্য বিখ্যাত।
— **সিলেটের শাহী এলাচি** (২০২২): সিলেট অঞ্চলে উৎপন্ন বিশেষ ধরনের এলাচি, যা মসলা হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
— **ভোলার লাল শাপলা** (২০২৩): ভোলা জেলার বিশেষ ধরনের শাপলা, যা ফুল হিসেবে পরিচিত এবং স্থানীয় সংস্কৃতির অংশ।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ ক) ৯ (নয়) টি: বাংলাদেশে ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্যের সংখ্যা নয় নয়, বরং এখন পর্যন্ত ১১টি পণ্য স্বীকৃতি লাভ করেছে।
✗ খ) ১০ (দশ) টি: বাংলাদেশে ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্যের সংখ্যা দশ নয়, বরং এখন পর্যন্ত ১১টি পণ্য স্বীকৃতি লাভ করেছে।
✗ ঘ) ১২ (বার) টি: বাংলাদেশে ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্যের সংখ্যা বার নয়, বরং এখন পর্যন্ত