ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) মেঘনা
বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি ও নদী ব্যবস্থা সম্পর্কিত প্রাথমিক ধারণা:
বাংলাদেশকে বলা হয় "নদীমাতৃক দেশ" কারণ এখানে অসংখ্য নদী-নালা রয়েছে। দেশের প্রধান তিনটি নদী ব্যবস্থা হলো পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা। এসব নদীর মাধ্যমে দেশের ভূ-প্রকৃতি, কৃষি, যোগাযোগ ও অর্থনীতির উপর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। দীর্ঘতম নদী নির্ধারণের ক্ষেত্রে মূলত নদীর মোট দৈর্ঘ্য বিবেচনা করা হয়, যার মধ্যে উৎস থেকে মুখ পর্যন্ত দূরত্ব অন্তর্ভুক্ত।
**মেঘনা নদী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— মেঘনা বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদী। এর মোট দৈর্ঘ্য প্রায় **২৪০ কিলোমিটার** (বাংলাদেশ অংশে)।
— এটি ভারতের আসাম রাজ্যের বরাক নদী থেকে উৎপন্ন হয়ে সিলেট জেলার মারি চা বাগানের কাছে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
— বাংলাদেশে প্রবেশের পর এটি সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর মিলিত প্রবাহ নিয়ে গঠিত হয়।
— মেঘনা নদী বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে চাঁদপুর জেলার কাছে পদ্মা নদীর সাথে মিলিত হয়ে মেঘনা নামে পরিচিত হয়।
— এর প্রধান শাখা নদী হলো **তিতাস নদী** ও **গোমতী নদী**।
— মেঘনা নদীর অববাহিকা বাংলাদেশের বৃহত্তম নদী অববাহিকা হিসেবে পরিচিত।
— এটি বাংলাদেশের প্রধান নৌপথগুলির মধ্যে একটি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
— মেঘনার তীরে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলির মধ্যে রয়েছে সিলেট, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চাঁদপুর।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ খ) যমুনা: যমুনা বাংলাদেশের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী। এর দৈর্ঘ্য প্রায় **২৪০ কিলোমিটার** হলেও এটি মূলত ব্রহ্মপুত্র নদীর প্রধান শাখা। যমুনা ব্রহ্মপুত্রের প্রধান প্রবাহ হিসেবে পরিচিত এবং এটি বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পদ্মা নদীর সাথে মিলিত হয়। অনেকেই যমুনাকে দীর্ঘতম নদী হিসেবে ভুল করে থাকেন।
✗ গ) পদ্মা: পদ্মা বাংলাদেশের তৃতীয় দীর্ঘতম নদী। এর দৈর্ঘ্য প্রায় **১২০ কিলোমিটার**। এটি গঙ্গা নদীর প্রধান শাখা হিসেবে পরিচিত এবং বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান নদী। পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলির মধ্যে রয়েছে রাজশাহী, পাবনা ও ফরিদপুর।
✗ ঘ) কর্ণফুলী: কর্ণফুলী বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলের প্রধান নদী। এর দৈর্ঘ্য প্রায় **১৮০ কিলোমিটার**। এটি চট্টগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে মিলিত হয়। কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ শহর হলো চট্টগ্রাম। এটি বাংলাদেশের প্রধান বন্দর নগরী হিসেবে পরিচিত।
উৎস:
— বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (www.bangladesh.gov.bd)
— বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) প্রকাশিত "বাংলাদেশের নদীসমূহ" শ