সঠিক উত্তর: (ক) যমুনা সেতু
বাংলাদেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় দীর্ঘতম রেল সেতু হিসেবে যমুনা সেতু একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। এটি দেশের উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগকে দক্ষিণাঞ্চলের সাথে সংযুক্ত করেছে।
**যমুনা সেতু সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— যমুনা সেতু বাংলাদেশের দীর্ঘতম রেল সেতু, যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৪.৮ কিলোমিটার (৪৮৭৭ মিটার)।
— এটি বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলা থেকে দক্ষিণাঞ্চলের টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুর উপজেলাকে সংযুক্ত করেছে।
— যমুনা সেতু নির্মাণের উদ্দেশ্য ছিল উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগকে দক্ষিণাঞ্চলের সাথে সংযুক্ত করা এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখা।
— সেতুটি নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৯৯৪ সালে এবং সম্পন্ন হয় ১৯৯৮ সালে।
— যমুনা সেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৯৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
— সেতুটির নির্মাণ কাজ করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান হুন্দাই ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড।
— যমুনা সেতু বাংলাদেশের রেলওয়ে নেটওয়ার্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি দেশের উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগকে দক্ষিণাঞ্চলের সাথে সংযুক্ত করেছে।
— সেতুটির মাধ্যমে ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে রেল যোগাযোগ সহজতর হয়েছে।
— যমুনা সেতু নির্মাণের ফলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ খ) হার্ডিঞ্জ সেতু: হার্ডিঞ্জ সেতু বাংলাদেশের একটি পুরাতন রেল সেতু, যা পদ্মা নদীর উপর নির্মিত। এটি দৈর্ঘ্যে যমুনা সেতুর তুলনায় অনেক ছোট। এটি নির্মিত হয়েছিল ১৯১৫ সালে এবং এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় দীর্ঘতম রেল সেতু।
✗ গ) ব্রহ্মপুত্র সেতু: ব্রহ্মপুত্র নদীর উপর কোনো রেল সেতু নেই। ব্রহ্মপুত্র নদীর উপর নির্মিত হয়েছে বঙ্গবন্ধু সেতু (সড়ক সেতু), যা রেল যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হয় না।
✗ ঘ) তিস্তা সেতু: তিস্তা সেতু বাংলাদেশের একটি সড়ক সেতু, যা তিস্তা নদীর উপর নির্মিত। এটি রেল যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হয় না।
উৎস:
— বাংলাদেশ রেলওয়ে অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (www.railway.gov.bd)
— যমুনা বহুমুখী সেতু প্রকল্প অফিশিয়াল রিপোর্ট
— বাংলাদেশ সরকারের অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২২