ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) ১৮ বছর
বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় ভোটাধিকার প্রাপ্তির জন্য সর্বনিম্ন বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে সংবিধান ও নির্বাচনী আইনে। ভোটাধিকার হলো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি মৌলিক অধিকার, যার মাধ্যমে জনগণ তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে। বাংলাদেশে এই অধিকার প্রাপ্তির জন্য নির্ধারিত বয়স সম্পর্কিত বিধানগুলো অত্যন্ত স্পষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ।
**ভোটারের সর্বনিম্ন বয়স সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— বাংলাদেশের সংবিধানের **অনুচ্ছেদ ৭(১)** অনুসারে, জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যম হলো নির্বাচন। এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য ভোটার হতে হলে নির্দিষ্ট বয়সসীমা পূরণ করতে হয়।
— **জনপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (Representation of the People Order, 1972)** এর **ধারা ১৭** অনুসারে, একজন ব্যক্তি ভোটার হতে পারেন যদি তার বয়স **১৮ বছর বা তদূর্ধ্ব** হয়।
— বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রকাশিত **ভোটার তালিকা বিধিমালা, ২০১৩** অনুসারে, ভোটার নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে এবং তার বয়স **১৮ বছর পূর্ণ** হতে হবে।
— বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো **১৮ বছর বয়সে ভোটাধিকার প্রদানের বিধান চালু হয় ১৯৭২ সালে**, স্বাধীনতার পরপরই। এর আগে পাকিস্তান আমলে ভোটাধিকার প্রাপ্তির বয়স ছিল **২১ বছর**।
— **স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন, ২০০৯** এবং **সংসদ নির্বাচন আইন, ২০১৮** উভয় ক্ষেত্রেই ভোটার হওয়ার জন্য **১৮ বছর বয়স** নির্ধারণ করা হয়েছে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ **ক) ১৬ বছর**: বাংলাদেশে ভোটাধিকার প্রাপ্তির জন্য ১৬ বছর বয়স যথেষ্ট নয়। তবে কিছু দেশে যেমন স্কটল্যান্ডে স্থানীয় নির্বাচনে ১৬ বছর বয়সীদের ভোটাধিকার দেওয়া হয়, বাংলাদেশে তা প্রযোজ্য নয়।
✗ **গ) ২০ বছর**: এটি বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য নয়। তবে কিছু দেশে যেমন ব্রাজিলে ভোটাধিকার প্রাপ্তির বয়স ১৬ বছর হলেও, বেশিরভাগ দেশে এটি ১৮ বা তার বেশি।
✗ **ঘ) ২১ বছর**: এটি বাংলাদেশের জন্য পুরোপুরি ভুল। পাকিস্তান আমলে এই বিধান ছিল, কিন্তু স্বাধীনতার পর তা পরিবর্তন করা হয়েছে।
**উৎস:**
— বাংলাদেশের সংবিধান, ১৯৭২ (অনুচ্ছেদ ৭)
— জনপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (ধারা ১৭)
— ভোটার তালিকা বিধিমালা, ২০১৩
— বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (www.ecs.gov.bd)
— স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন, ২০০৯