ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) ঈশ্বরদী
বাংলাদেশের কৃষি ও ইক্ষু শিল্পের উন্নয়নে ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেশের প্রধান অর্থকরী ফসল ইক্ষু (আখ) চাষের উন্নয়ন, নতুন জাত উদ্ভাবন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত এই ইনস্টিটিউটটি বাংলাদেশের ইক্ষু গবেষণার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত।
**ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউট সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— **প্রতিষ্ঠাকাল**: ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫৩ সালে। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সরকারের উদ্যোগে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
— **অবস্থান**: প্রতিষ্ঠানটি রাজশাহী বিভাগের পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলায় অবস্থিত। ঈশ্বরদীকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কারণ হলো এ অঞ্চলের মাটি ও জলবায়ু ইক্ষু চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
— **উদ্দেশ্য**:
— ইক্ষু চাষের নতুন জাত উদ্ভাবন করা।
— ইক্ষু চাষের জন্য উন্নত প্রযুক্তি ও পদ্ধতি উদ্ভাবন করা।
— ইক্ষু চাষিদের প্রশিক্ষণ ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম পরিচালনা করা।
— ইক্ষু থেকে উৎপাদিত বিভিন্ন উপজাতের ব্যবহার সম্পর্কে গবেষণা করা।
— **গবেষণা কার্যক্রম**:
— ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউট বিভিন্ন জাতের ইক্ষু উদ্ভাবন করেছে, যেমন: বিএসআরআই ইক্ষু-২২, বিএসআরআই ইক্ষু-২৫ ইত্যাদি।
— ইক্ষু চাষের জন্য রোগ প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
— ইক্ষু থেকে চিনি উৎপাদনের পাশাপাশি জৈব জ্বালানি উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা করা হয়।
— **সেবা প্রদান**:
— ইক্ষু চাষিদের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়।
— ইক্ষু চাষের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করা হয়।
— **সহযোগিতা**: বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশন (বিএসএফআইসি) এর সাথে সমন্বয় করে ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউট কাজ করে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) দিনাজপুর: দিনাজপুর বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের একটি জেলা, যেখানে ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউট অবস্থিত নয়। তবে দিনাজপুরে ইক্ষু চাষ হয় এবং এখানে ইক্ষু গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে বলে অনেকেই ভুল ধারণা পোষণ করেন।
✗ খ) গোপালপুর: গোপালপুর বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার একটি উপজেলা। এখানে ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউট অবস্থিত নয়। তবে গোপালপুরে ইক্ষু চাষ হয় এবং স্থানীয়ভাবে ইক্ষু গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
✗ গ) পাকশী: পাকশী বাংলাদেশের পাবনা জেলার একটি উপজেলা। পাকশীতে বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট অবস্থিত নয়। তবে পাকশীতে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের অধীনে একটি চিনি কল রয়েছে।
উৎস:
— বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউ