সঠিক উত্তর: (ঘ) দোয়েল
বাংলাদেশের জাতীয় পাখি হিসেবে দোয়েলের স্বীকৃতি নিয়ে সরকারি চাকরির পরীক্ষায় প্রায়ই প্রশ্ন আসে। জাতীয় পাখি নির্বাচনের ক্ষেত্রে দেশের স্বকীয়তা, সৌন্দর্য এবং সর্বজনীন পরিচিতিকে বিবেচনা করা হয়।
**দোয়েল সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— দোয়েল (*Copsychus saularis*) বাংলাদেশের জাতীয় পাখি হিসেবে স্বীকৃত। সরকারি গেজেট অনুসারে ১৯৭৪ সালে এটি জাতীয় পাখির মর্যাদা লাভ করে।
— দোয়েলের বৈজ্ঞানিক নাম *Copsychus saularis*, যা মূলত ভারতীয় উপমহাদেশের স্থানীয় পাখি।
— এর দেহের উপরিভাগ কালো এবং নিচের অংশ সাদা। লেজের পালকগুলো কালো ও সাদার মিশ্রণে গঠিত।
— দোয়েলের ডাক অত্যন্ত মনোহর এবং এটি প্রায়ই মানুষের কাছাকাছি বসবাস করে। এর ডাকের জন্য এটি পরিচিত।
— বাংলাদেশের গ্রামীণ পরিবেশে দোয়েলকে প্রায়ই দেখা যায়। এটি ক্ষেতখামার, বাগান এবং এমনকি শহরের পার্কেও বিচরণ করে।
— দোয়েল অত্যন্ত সাহসী এবং মানুষের উপস্থিতিতে ভীত না হয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করে।
— এটি মূলত পোকামাকড়ভোজী পাখি। এর খাদ্যতালিকায় রয়েছে বিভিন্ন ধরনের পোকা, কীটপতঙ্গ এবং কখনো কখনো ফলও।
— দোয়েলের প্রজননকাল সাধারণত মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। স্ত্রী দোয়েল সাধারণত ৪-৫টি ডিম পাড়ে।
— বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত রচয়িতা কাজী নজরুল ইসলাম তার কবিতায় দোয়েলকে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন সাহিত্য ও সংস্কৃতিতেও দোয়েলের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
— দোয়েলকে বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবনের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) ময়না: ময়না অত্যন্ত বুদ্ধিমান পাখি হিসেবে পরিচিত এবং এটি মানুষের কাছ থেকে কথা বলা শিখতে পারে। তবে এটি বাংলাদেশের জাতীয় পাখি নয়।
✗ খ) কাক: কাক বাংলাদেশের সর্বত্র দেখা যায় এবং এটি অত্যন্ত অভিযোজিত পাখি। তবে কাককে জাতীয় পাখি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।
✗ গ) শালিক: শালিকও বাংলাদেশের একটি পরিচিত পাখি। এটি দলবদ্ধভাবে বিচরণ করে এবং এর ডাক অত্যন্ত উচ্চস্বরে হয়। তবে এটি জাতীয় পাখির মর্যাদা পায়নি।
উৎস:
- বাংলাদেশ সরকারের গেজেট নোটিফিকেশন (১৯৭৪)
- বাংলাদেশ জাতীয় সংগীত ও সাহিত্যে উল্লিখিত দোয়েলের উল্লেখ
- বাংলাদেশের পাখি বিষয়ক বিভিন্ন গবেষণা গ্রন্থ (যেমন: *Birds of Bangladesh* – Enam Ul Haque)
- প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পাঠ্যপুস্তকে জাতীয় পাখি সম্পর্কিত অধ্যায়