ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) কাঁঠাল
বাংলাদেশের জাতীয় ফল হিসেবে কাঁঠালকে নির্বাচিত করার পেছনে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব রয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক হিসেবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাঁঠালের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
**কাঁঠাল সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— **জাতীয় ফল হিসেবে স্বীকৃতি**: বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ২০১০ সালের ১৫ নভেম্বর কাঁঠালকে জাতীয় ফল হিসেবে ঘোষণা করে। এই ঘোষণার মাধ্যমে দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে কাঁঠালকে প্রতিষ্ঠিত করা হয়।
— **পুষ্টিগুণ**: কাঁঠাল অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি ফল। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, সি, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন, প্রোটিন ও ফাইবার। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং হজমশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে।
— **বাংলাদেশের অর্থনীতি ও কৃষিতে অবদান**: কাঁঠাল বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফল। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপকভাবে কাঁঠাল চাষ করা হয়। এটি রপ্তানি পণ্য হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
— **সাংস্কৃতিক গুরুত্ব**: বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবনে কাঁঠাল একটি অতি পরিচিত ও প্রিয় ফল। বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে কাঁঠালের ব্যবহার দেখা যায়। এটি বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
— **বৈজ্ঞানিক নাম ও শ্রেণীবিন্যাস**: কাঁঠালের বৈজ্ঞানিক নাম *Artocarpus heterophyllus*। এটি Moraceae পরিবারের অন্তর্ভুক্ত।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) আম: আম বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ ফল হলেও এটি জাতীয় ফল নয়। আমকে বাংলাদেশের জাতীয় ফল হিসেবে বিবেচনা করা হয় না।
✗ গ) কলা: কলা বাংলাদেশের একটি সাধারণ ও সহজলভ্য ফল হলেও এটি জাতীয় ফল নয়। কলা প্রধানত খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
✗ ঘ) পেঁপে: পেঁপে একটি পুষ্টিকর ফল হলেও এটি বাংলাদেশের জাতীয় ফল নয়। এটি প্রধানত স্বাস্থ্যগত উপকারিতার জন্য পরিচিত।
উৎস:
— বাংলাদেশ সরকারের প্রজ্ঞাপন (২০১০ সালের ১৫ নভেম্বর)
— বাংলাদেশ কৃষি তথ্য সার্ভিস (BAIS)
— জাতীয় পরিচয়পত্র ও প্রতীক সম্পর্কিত সরকারি নথি