ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) কামরুল হাসান
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার ডিজাইনার সম্পর্কিত পরীক্ষা-প্রাসঙ্গিক ভূমিকা:
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার নকশা প্রণয়ন করেন বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী ও শিল্পী কামরুল হাসান। তাঁর নকশা করা পতাকাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয়তাবাদের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
**কামরুল হাসান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— তিনি ছিলেন বাংলাদেশের একজন বিখ্যাত চিত্রশিল্পী, কার্টুনিস্ট ও শিক্ষাবিদ।
— তাঁর জন্ম ১৯২১ সালের ২ ডিসেম্বর কলকাতায় এবং মৃত্যু ১৯৮৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায়।
— তিনি কলকাতার গভর্নমেন্ট আর্ট কলেজ থেকে চারুকলায় ডিপ্লোমা ডিগ্রি অর্জন করেন।
— বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার নকশা ছাড়াও তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় কাজে যুক্ত ছিলেন।
— তিনি বাংলাদেশের চারুকলা আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে বিবেচিত হন।
— তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে "একাত্তরের গণহত্যা", "মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলি" প্রভৃতি চিত্রকর্ম।
— তিনি বাংলাদেশ চারুকলা মহাবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ছিলেন।
— তাঁর কর্মজীবনের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হন।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ খ) জয়নুল আবেদিন: তিনি বাংলাদেশের একজন বিখ্যাত চিত্রশিল্পী ছিলেন, তবে জাতীয় পতাকার ডিজাইনার ছিলেন না। তিনি মূলত গ্রামবাংলার চিত্রকর্ম ও মহাজনী সংস্কৃতির জন্য বিখ্যাত।
✗ গ) হাশেম খান: তিনি একজন বিশিষ্ট কার্টুনিস্ট ও চিত্রশিল্পী ছিলেন, কিন্তু জাতীয় পতাকার ডিজাইনার ছিলেন না। তিনি বাংলাদেশের কার্টুন আন্দোলনের অন্যতম ব্যক্তিত্ব।
✗ ঘ) হামিদুর রহমান: তিনি একজন স্থপতি ও চিত্রশিল্পী ছিলেন, তবে জাতীয় পতাকার ডিজাইনার ছিলেন না। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের স্থপতি হিসেবে পরিচিত।
উৎস:
— বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর প্রকাশিত "বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকসমূহ" বই।
— বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রকাশিত "একুশে পদক গ্রহণকারী ব্যক্তিবর্গ" সংক্রান্ত তথ্য।
— বাংলাদেশ চারুকলা মহাবিদ্যালয় প্রকাশিত "কামরুল হাসান স্মারক গ্রন্থ"।