ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) কামরুল হাসান
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার ডিজাইনার হিসেবে কামরুল হাসানের নাম ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে।
**জাতীয় পতাকা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ করে ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি, যখন বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে পতাকাটিকে স্বীকৃতি দেয়।
— জাতীয় পতাকার মূল ডিজাইনটি তৈরি করেছিলেন **কামরুল হাসান**, যিনি একজন প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী এবং বাংলাদেশের শিল্পকলা জগতের অন্যতম ব্যক্তিত্ব।
— পতাকার মাপ ও রং নির্ধারণ করা হয়েছিল সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী। পতাকার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত ছিল ১০:৬।
— পতাকার সবুজ অংশটি বাংলাদেশের সবুজ প্রকৃতি ও কৃষিভিত্তিক সমাজকে প্রতিনিধিত্ব করে, আর লাল বৃত্তটি সূর্যোদয়ের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যা স্বাধীনতার জন্য শহীদদের রক্তকে নির্দেশ করে।
— প্রাথমিকভাবে পতাকাটিতে একটি মানচিত্র ছিল, যা পরবর্তীতে সরিয়ে ফেলা হয়। বর্তমান পতাকায় কোনো মানচিত্র নেই, শুধুমাত্র লাল বৃত্ত ও সবুজ ক্ষেত্র রয়েছে।
— জাতীয় পতাকার নকশাটি প্রথম তৈরি করেছিলেন **শিব নারায়ণ দাস**, তবে চূড়ান্তভাবে কামরুল হাসান কর্তৃক পরিমার্জিত ও চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হয়েছিল।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ জয়নুল আবেদীন: তিনি বাংলাদেশের একজন বিখ্যাত চিত্রশিল্পী ছিলেন, তবে জাতীয় পতাকার ডিজাইনার ছিলেন না। তিনি মূলত বাংলাদেশের শিল্পকলা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
✗ হাশেম খান: তিনি একজন প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী ও বাংলাদেশের সংস্কৃতি ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন, কিন্তু জাতীয় পতাকার ডিজাইনার ছিলেন না।
✗ হামিদুর রহমান: তিনি একজন স্থপতি ও চিত্রশিল্পী ছিলেন, যিনি বাংলাদেশের জাতীয় স্মৃতিসৌধের নকশা করেছিলেন, কিন্তু জাতীয় পতাকার ডিজাইনার ছিলেন না।
উৎস:
— বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদপ্তর কর্তৃক প্রকাশিত জাতীয় পতাকার ইতিহাস।
— বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর কর্তৃক প্রকাশিত শিল্পকলা বিষয়ক প্রকাশনা।
— "বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকসমূহ" শীর্ষক সরকারি প্রকাশনা।