ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) কামরুল হাসান
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার ইতিহাস ও গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রতিটি সরকারি চাকরির পরীক্ষার্থীর জন্য অত্যন্ত জরুরি। জাতীয় পতাকা একটি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার নকশা প্রণয়নে যিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন, তিনি হলেন বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী কামরুল হাসান।
**কামরুল হাসান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— তিনি ১৯২১ সালের ২ ডিসেম্বর কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
— তিনি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান চিত্রশিল্পী হিসেবে পরিচিত এবং তাকে "শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের পর বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ চিত্রশিল্পী" হিসেবে গণ্য করা হয়।
— তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ছিলেন।
— তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে "একাত্তরের গণহত্যা", "মহাজীবন", এবং "নবান্ন"।
— বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার নকশা প্রণয়নের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে অবদান রেখেছেন।
— তিনি বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক স্বাধীনতা পুরস্কার (১৯৭৯) এবং একুশে পদক (১৯৭৫) লাভ করেন।
— তার নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সময়ে বাংলাদেশের মানচিত্র সম্বলিত পতাকার নকশা প্রণয়ন করা হয়।
— জাতীয় পতাকার বর্তমান রূপটি (সবুজ আয়তক্ষেত্রের মধ্যে লাল বৃত্ত) তারই নকশা অনুসারে তৈরি করা হয়েছে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) জয়নুল আবেদিন: তিনি বাংলাদেশের একজন বিখ্যাত চিত্রশিল্পী ছিলেন এবং চারুকলা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তবে তিনি জাতীয় পতাকার নকশাকার ছিলেন না।
✗ গ) হামিদুর রহমান: তিনি একজন বিখ্যাত স্থপতি ছিলেন, যিনি বাংলাদেশ জাতীয় স্মৃতিসৌধের নকশা প্রণয়ন করেন। জাতীয় পতাকার নকশার সাথে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
✗ ঘ) হাশেম খান: তিনি একজন প্রখ্যাত কার্টুনিস্ট ও চিত্রশিল্পী ছিলেন, যিনি বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন। তবে জাতীয় পতাকার নকশার সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই।
উৎস:
— বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর কর্তৃক প্রকাশিত "বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকসমূহ"।
— বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদপ্তর কর্তৃক প্রকাশিত "জাতীয় পতাকা ও জাতীয় প্রতীক" বিষয়ক প্রকাশনা।
— "শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন ও তাঁর সময়" (লেখক: সৈয়দ আজিজুল হক)।