ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু
বাংলাদেশের জলবায়ু সম্পর্কিত ভূমিকা:
বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি নদীবিধৌত দেশ, যার ভৌগোলিক অবস্থান ও ভূপ্রকৃতি জলবায়ুকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করে। দেশটির জলবায়ু প্রধানত উষ্ণ ও আর্দ্র প্রকৃতির হওয়ায় এটি ক্রান্তীয় অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। তবে বার্ষিক বৃষ্টিপাতের তারতম্য এবং মৌসুমী বায়ুর প্রভাবের কারণে বাংলাদেশের জলবায়ুকে "ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু" হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে।
**ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— বাংলাদেশের অবস্থান: বাংলাদেশ ২০°৩৪' উত্তর থেকে ২৬°৩৮' উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°০১' পূর্ব থেকে ৯২°৪১' পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত। এটি মূলত ভারতীয় উপমহাদেশের পূর্বাংশে অবস্থিত।
— মৌসুমী বায়ুর প্রভাব: বাংলাদেশের জলবায়ুতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হলো মৌসুমী বায়ু। গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু (বর্ষাকালীন বায়ু) প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়, যা কৃষির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে শীতকালে উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ু প্রবাহিত হয়, যা শুষ্ক ও শীতল আবহাওয়া সৃষ্টি করে।
— বার্ষিক তাপমাত্রা: বাংলাদেশে গড় বার্ষিক তাপমাত্রা ২৫°-৩০° সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে। গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা ৩০°-৪০° সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে, যেখানে শীতকালে তা ১০°-২০° সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে।
— বার্ষিক বৃষ্টিপাত: বাংলাদেশে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত প্রায় ২,৫০০ মিলিমিটার। তবে পূর্বাঞ্চলে (যেমন চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে) বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশি (৩,০০০-৪,০০০ মিলিমিটার), যেখানে পশ্চিমাঞ্চলে (যেমন রাজশাহী অঞ্চলে) তা কম (১,৫০০-২,০০০ মিলিমিটার)।
— প্রাকৃতিক দুর্যোগ: বাংলাদেশের জলবায়ুতে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা ও জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রায়ই দেখা যায়। বিশেষত বর্ষাকালে নদীভাঙন ও বন্যা একটি সাধারণ ঘটনা।
— উদ্ভিদ ও জীববৈচিত্র্য: ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ুর কারণে বাংলাদেশে প্রচুর পরিমাণে গাছপালা ও জীববৈচিত্র্য রয়েছে। এখানে চিরহরিৎ, পত্রঝরা ও ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল দেখা যায়।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় জলবায়ু: বাংলাদেশের জলবায়ুকে এককভাবে ক্রান্তীয় অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, উপক্রান্তীয় অঞ্চলের কোনো প্রভাব এখানে নেই। তাই এই বিকল্পটি ভুল।
✗ গ) উপক্রান্তীয় জলবায়ু: উপক্রান্তীয় জলবায়ু সাধারণত উচ্চ অক্ষাংশে (৩০°-৪০° উত্তর/দক্ষিণ) দেখা যায়। বাংলাদেশের অবস্থান ক্রান্তীয় অঞ্চলের মধ্যে হওয়ায় এই বিকল্পটি