ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) ৪৮
বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্পর্কিত সরকারি পরিসংখ্যান ও আদিবাসী বিষয়ক তথ্যাদির প্রেক্ষিতে এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে, যাদের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য দেশের সামাজিক ও জাতিগত গঠনে অবদান রাখছে।
**বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— বাংলাদেশে সরকারিভাবে স্বীকৃত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা **৪৮টি**। এই তালিকা ২০১০ সালে সরকারিভাবে প্রকাশিত হয়।
— ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো, সাঁওতাল, মণিপুরী, মুন্ডা, ওঁরাও, খাসিয়া, রাখাইন ইত্যাদি।
— পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে সর্বাধিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে, যেখানে চাকমা জনগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ।
— ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্ম ও সামাজিক প্রথা রয়েছে, যা বাংলাদেশের বহুত্ববাদী সংস্কৃতির অংশ।
— সরকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের অধিকার সংরক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন নীতিমালা প্রণয়ন করেছে, যেমন: পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন, ২০০১।
— আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ভিন্ন ভিন্ন তথ্য রয়েছে, তবে সরকারি স্বীকৃতি অনুযায়ী সংখ্যাটি **৪৮**।
— ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের মধ্যে কিছু জনগোষ্ঠী নিজেদের আদিবাসী হিসেবে দাবি করলেও সরকারিভাবে তারা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃত।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) ২০: এটি অত্যন্ত কম সংখ্যা। সরকারি স্বীকৃত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি।
✗ গ) ২৫: এটি একটি আনুমানিক সংখ্যা হতে পারে, তবে সরকারি তালিকায় এত কম সংখ্যা নেই।
✗ ঘ) ৩২: এটি কিছু গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখিত সংখ্যা হতে পারে, তবে সরকারি স্বীকৃতি অনুযায়ী এটি সঠিক নয়।
**উৎস:**
— বাংলাদেশ সরকারের আদিবাসী বিষয়ক তথ্য (২০১০ সালের সরকারি স্বীকৃতি তালিকা)
— পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সরকার
— আদিবাসী ফোরাম ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদন