ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) ভাওয়াল ও মধুপুরের বনভূমি
বাংলাদেশের বনাঞ্চলের বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব সম্পর্কিত ভূমিকা:
বাংলাদেশের বনভূমিগুলো বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ ও প্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এসব বনভূমির মধ্যে কিছু বিশেষ ধরনের বৃক্ষের জন্য বিখ্যাত, যেমন শালবৃক্ষ। শালবৃক্ষ বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বৃক্ষ সম্পদ হিসেবে পরিচিত এবং এর ব্যবহার বহুমুখী।
ভাওয়াল ও মধুপুরের বনভূমি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— ভাওয়াল ও মধুপুরের বনভূমি বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ বনাঞ্চল হিসেবে পরিচিত। এটি মূলত টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, গাজীপুর ও জামালপুর জেলায় অবস্থিত।
— এই বনভূমিগুলোতে প্রচুর পরিমাণে শালবৃক্ষ (Shorea robusta) জন্মে, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
— শালবৃক্ষের কাঠ অত্যন্ত শক্ত ও টেকসই হওয়ায় আসবাবপত্র, নির্মাণ সামগ্রী এবং অন্যান্য শিল্পে ব্যবহৃত হয়।
— ভাওয়াল ও মধুপুরের বনভূমি বাংলাদেশের বৃহত্তম শালবৃক্ষের বনভূমি হিসেবে পরিচিত। এছাড়া এখানে অন্যান্য প্রজাতির বৃক্ষও পাওয়া যায়, যেমন গর্জন, সেগুন, এবং বিভিন্ন ধরনের ঔষধি গাছ।
— এই বনভূমিগুলো বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ ক) সিলেটের বনভূমি: সিলেটের বনভূমি প্রধানত চা বাগান এবং চিরহরিৎ বৃক্ষের জন্য বিখ্যাত, যেমন গর্জন, চাপালিশ, এবং সেগুন। এখানে শালবৃক্ষের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম।
✗ খ) পার্বত্য চট্টগ্রামের বনভূমি: পার্বত্য চট্টগ্রামের বনভূমি প্রধানত চিরহরিৎ বৃক্ষের জন্য পরিচিত, যেমন চাপালিশ, গর্জন, এবং বিভিন্ন ধরনের বাঁশ। এখানে শালবৃক্ষের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য নয়।
✗ ঘ) খুলনা, বরিশাল ও পটুয়াখালীর বনভূমি: এই অঞ্চলের বনভূমিগুলো মূলত সুন্দরবন নামে পরিচিত, যা ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের জন্য বিখ্যাত। এখানে প্রধানত সুন্দরী, গেওয়া, এবং কেওড়া গাছ জন্মে। শালবৃক্ষ এখানে পাওয়া যায় না।
উৎস:
— বাংলাদেশ বন অধিদপ্তর (Forest Department, Bangladesh)
— বাংলাদেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের পাঠ্যপুস্তক
— "বাংলাদেশের বনাঞ্চল ও জীববৈচিত্র্য" শীর্ষক সরকারি প্রকাশনা