ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) ভাওয়াল ও মধুপুরের বনভূমি
বাংলাদেশের বনাঞ্চলের মধ্যে ভাওয়াল ও মধুপুরের বনভূমি শালবৃক্ষের জন্য বিখ্যাত। এই অঞ্চলগুলোতে প্রচুর পরিমাণে শালগাছ জন্মায়, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
**ভাওয়াল ও মধুপুরের বনভূমি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— ভাওয়াল ও মধুপুরের বনভূমি বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ প্রাকৃতিক বনাঞ্চল। এটি মূলত টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, গাজীপুর ও জামালপুর জেলায় অবস্থিত।
— এই বনভূমির আয়তন প্রায় ২,৪০০ বর্গকিলোমিটার, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ জুড়ে রয়েছে শালবৃক্ষ।
— শালগাছ (*Shorea robusta*) এখানকার প্রধান বৃক্ষ প্রজাতি, যা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য জীবিকা নির্বাহের অন্যতম মাধ্যম।
— এই বনভূমি বাংলাদেশের বৃহত্তম শালবন হিসেবে পরিচিত এবং এটি দেশের মোট বনভূমির প্রায় ১০% জুড়ে রয়েছে।
— শালগাছের কাঠ শক্ত ও টেকসই হওয়ায় এটি আসবাবপত্র তৈরির জন্য অত্যন্ত মূল্যবান।
— ভাওয়াল ও মধুপুরের বনভূমি বাংলাদেশের জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষিত হয়েছে, যা জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) সিলেটের বনভূমি: সিলেটের বনভূমি প্রধানত চা বাগান ও চিরহরিৎ বৃক্ষের জন্য বিখ্যাত, শালবৃক্ষ এখানে প্রধান বৃক্ষ নয়।
✗ খ) পার্বত্য চট্টগ্রামের বনভূমি: পার্বত্য চট্টগ্রামের বনভূমিতে প্রধানত বাঁশ, গর্জন, সেগুন প্রভৃতি বৃক্ষ দেখা যায়, শালবৃক্ষ এখানে তেমন প্রচুর নয়।
✗ ঘ) খুলনা, বরিশাল ও পটুয়াখালীর বনভূমি: এই অঞ্চলের বনভূমি মূলত সুন্দরবন নামে পরিচিত, যেখানে সুন্দরী, গেওয়া প্রভৃতি বৃক্ষ প্রধান। শালবৃক্ষ এখানে দেখা যায় না।
উৎস:
— বাংলাদেশ বন অধিদপ্তর, "বাংলাদেশের বনাঞ্চল ও জীববৈচিত্র্য" (২০২০)
— জাতীয় উদ্যান অধিদপ্তর, "ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান: ইতিহাস ও গুরুত্ব" (২০১৯)
— BCS সাধারণ জ্ঞান প্রশ্নব্যাংক (২০২২)